বিনামূল্যে কম্পিউটার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

পোস্টলিখেছেন আলোকিত শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০০৭ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

প্রতিনিয়ত বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে ইন্টারনেটে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের পরিমাণ। নামি-বেনামী অসংখ্য ভাইরাস ও স্পাইওয়্যার নামক ঘাতক প্রোগ্রামের দ্বারা প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে বিশ্বের হাজার হাজার কম্পিউটার এবং কম্পিউটারে সংরক্ষিত মূল্যবান তথ্য। এতে ব্যবহারকারীরা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়াও হ্যাকার নামে পরিচিত একশ্রেণীর অসাধু কম্পিউটার ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের সাহায্যে আত্মসাৎ করছে অনলাইনে সংরক্ষিত ব্যাংক একাউন্ট ও ক্রেডিট কার্ডের গোপন নাম্বার, নেট ব্যবহারকারীদের ই-মেইল এ্যকাউন্ট ও মেসেঞ্জার আইডি, গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড ইত্যাদি এবং এভাবে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যপক ক্ষতি করছে এই হ্যাকাররা। এছাড়াও এরা অনলাইন কেনাবেচার সাইট থেকে ব্যালেন্স চুরি করে নেয়, ছোটবড় বিভিন্ন কোম্পানীর ডাটাবেজ মুছে দেয়, ওয়েব সাইটের এফটিপি একাউন্ট হ্যাক করে মুছে দেয় সব ফাইল। ফলস্বরূপ ওইসব কোম্পানী ব্যপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এসব ভাইরাস, স্পাইওয়্যার ও হ্যাকারদের ঠেকাতে তৈরী হয়েছে নরটন, ম্যাকাফির মত নামি দামী সব অনলাইন নিরাপত্তা সফ্‌টওয়্যার কোম্পানী এবং তাদের তৈরীকৃত সফ্‌টওয়্যারের সাহায্যে নিশ্চিত করছে সকল শ্রেণীর কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব নিরাপত্তা সফ্‌টওয়্যারের বিক্রয়মূল্য সাধারণ গ্রাহকদের ক্রয়সীমার বাইরে থাকে বিধায় সাধারণ গ্রাহকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্ছিত হন। অনলাইন হুমকির সবচেয়ে বড় শিকার বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশসমূহের জনগণ যাদের এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে অনলাইন নিরাপত্তা সফ্‌টওয়্যার কেনার সামর্থ্য নেই। তাই দেখা যায়... কেউ একটি নতুন কম্পিউটার কেনার কিছুদিনের মাঝেই কম্পিউটারটিতে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দেয় এবং একসময় কম্পিউটারটি অকেজো হয়ে পরে। সাধারণ গ্রাহকদের নিরাপত্তার এই চাহিদার কথা বিবেচনা করে কিছু নিবেদিতপ্রাণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামার তাদের তৈরীকৃত কিছু নিরাপত্তা সফ্‌টওয়্যার সকল শ্রেণীর কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এখানে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সেরা কিছু অনলাইন নিরাপত্তা সফ্‌টওয়্যারের বর্ণনা দিয়ে এদের প্রাপ্তিস্থান উল্লেখ করা হলঃ

কমোডো ফায়ারওয়াল প্রোঃ অনলাইন নিরাপত্তা সফ্‌টওয়্যারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফায়ারওয়াল। এটি ইন্টারনেট এর ইনকামিং ও আউটগোইং ট্রাফিক ফিল্টার করে হ্যাকারদের আক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং কম্পিউটারে কোনপ্রকার ক্ষতিকারক সফ্‌টওয়্যার(ভাইরাস, স্পাইওয়্যার ইত্যাদি) প্রবেশে বাধা দেয়। এছাড়াও এটি কম্পিউটারে ইন্সটলকৃত প্রোগ্রামসমূহ মনিটর করে কোন সন্দেহজনক কর্মকান্ড দেখলে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে এবং প্রয়োজনবোধে ঝুঁকিপূর্ণ কোন কমান্ড এক্সেকিউশন প্রতিরোধ করে। ফলে কম্পিউটার ব্যপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
সর্বাধিক ব্যবহৃত উইন্ডোজ ঘরানার অপারেটিং সিস্টেমের একটি অংশ হিসাবে উইন্ডোজ ফায়ারওয়াল সচল থাকে। কিন্তু এই ফায়ারওয়াল শুধু ইনকামিং হ্যাকারদের প্রবেশে বাধা দেয়, কম্পিউটারের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্পাইওয়্যারসমূহের ইন্টারনেট প্রবেশে কোনরকম বাধা দেয় না। ফলে নিরাপত্তার ফাঁক থেকেই যায়। উইন্ডোজ ফায়ারওয়ালের এই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে বিভিন্ন নামকরা কম্পিউটার সিকিউরিটি কোম্পানী সর্বাধিক নিরাপত্তার জন্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ফায়ারওয়াল তৈরী করে থাকে।

বিনামূল্যে প্রাপ্ত ফায়ারওয়্যালগুলোর মধ্যে সেরা হচ্ছে জোন এলার্ম এবং কমোডো ফায়ারওয়্যাল প্রো। জোন এলার্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও এটি অধিক পরিমাণ সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করে... ফলে এটি ব্যবহারের কারণে কম্পিউটার কিছুটা স্লো হয়ে যেতে পারে। অপরদিকে কমোডো ফায়ারওয়াল প্রো জোন এলার্ম এর মতই শক্তিশালী নিরাপত্তা সম্পন্ন এবং এটি অনেক কম সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করে। কম্পিউটারে মাত্র ১২৮ মেগাবাইট Ram থাকলেই এটি চালানো সম্ভব এবং এটি ব্যবহারে কম্পিউটার একটুও স্লো হয় না। এটি অনলাইন এবং ডেস্কটপ ফায়ারওয়্যাল দুধরণের কাজই করতে সক্ষম, তবে ব্যবহারকারি চাইলে ডেস্কটপ ফায়ারওয়্যালটি বন্ধ রাখতে পারেন কারন এটি ঘনঘন বিভিন্ন পপ-আপ উইন্ডো প্রদর্শন করে যা অনেকের কাছেই বিরক্তিকর।
কমোডো ফায়ারওয়্যাল প্রো ডাউনলোড করতে পারবেন এই সাইট থেকে...

কমোডো ফায়ারওয়্যাল সংক্রান্ত কিছু টিপসঃ
১। কমোডো ফায়ারওয়্যাল ইন্সটলের পর কম্পিউটার রিস্টার্ট করে প্রথমেই নেটওয়ার্ক ডিফেন্স ট্রেইনিং মোডে সেট করুন এবং প্রো-এ্যাক্টিভ ডিফেন্স ডিজেবল করে দিন। আপনার কম্পিউটারে আলাদা এন্টিভাইরাস ইন্সটল করা থাকলে প্রো-এ্যাক্টিভ ডিফেন্সের কোন প্রয়োজন নেই।
২। এরপর Miscellaneous ট্যাবের Settings মেনুতে গিয়ে Show the balloon messages অপশনটি বন্ধ করে দিন। তাহলে আর কোন বিরক্তিকর পপ-আপ প্রদর্শিত হবে না এবং কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই কমোডো ফায়ারওয়্যাল ব্যবহার করতে পারবেন।
৩। কমোডো ফায়ারওয়্যাল ইন্সটলের পর প্রথমবার ইন্টারনেটে সংযুক্ত হলে New Network Found সংক্রান্ত একটি উইন্ডো প্রদর্শিত হবে। এখানে Don’t detect new networks automatically অপশনটি নির্বাচন করুন।
কমোডো ফায়ারওয়াল প্রো এর স্ক্রিণশটঃ
ছবি

আভাস্ট এন্টিভাইরাসঃ ভাইরাস হচ্ছে একধরণের এ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম অথবা নির্দেশাবলী যা কোন কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে অবস্থানকালে মারাত্মক ঝুঁকিসম্পন্ন কমান্ড এক্সেকিউট করে হার্ডডিস্কে অবস্থিত জরুরী তথ্য অথবা সিস্টেম ফাইল মুছে দেয়। এন্টিভাইরাস প্রোগ্রামসমূহের মৌলিক কাজ হচ্ছে সমগ্র হার্ডড্রাইভ অথবা হার্ডড্রাইভের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা(সিস্টেম ডিস্ক) থেকে ভাইরাসসমূহ খুঁজে বের করা এবং এদের নির্মূল করা। কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিচিত্র ধরণের নিত্যনতুন ভাইরাস নির্মূলের জন্য বর্তমানে এ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামসমূহের কর্মক্ষমতাও আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত এবং শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। একটি আধুনিক এ্যান্টিভাইরাসের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে রিয়াল টাইম প্রটেকশন(যা হার্ডডিস্কে অবস্থিত কোন ফাইল ব্যবহৃত হওয়ামাত্র স্ক্যান করে দেখে), ভাইরাস রিকভারি ডাটাবেজ(ভাইরাস আক্রমনের পর কম্পিউটারকে পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য), লাইভ আপডেট(সর্বশেষ চিহ্নিত ভাইরাসমূহের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ) ইত্যাদি। বিনামূল্যে প্রাপ্ত এ্যান্টিভাইরাস সফ্‌টওয়্যারসমূহের মধ্যে এভিজি এ্যান্টিভাইরাস, এ্যান্টি ভিআইআর এবং আভাস্ট হোম এডিশন উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে আভাস্ট এন্টিভাইরাসই সবচেয়ে কার্যকরী কারণ এটি সবচেয়ে কম সিস্টেম রিসোর্স(প্রসেসর ও র‌্যাম) ব্যবহার করে এবং খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে স্ক্যান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। আভাস্টের মূল কম্পোনেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড শিল্ড(রিয়াল টাইম প্রটেকশন), ওয়েব শিল্ড(ছোটখাট একটি ফায়ারওয়াল), আই.এম.(ইন্সট্যান্ট মেসেজিং) প্রটেকশন, ইন্টারনেট মেইল(আউটলুক এক্সপ্রেস, এম.এস. আউটলুক, মোজিলা থান্ডারবার্ড ইত্যাদি) প্রটেকশন, এবং পি.টু.পি.(Peer2Peer) ফাইল শেয়ারিং শিল্ড। এছাড়াও এতে রয়েছে বুট টাইম স্ক্যানার যা সিস্টেম স্টার্টআপ এর সময় হার্ডডিস্ক ড্রাইভ স্ক্যান করে। যেহেতু স্টার্টআপের সময় অন্য কোন প্রোগ্রাম চালু থাকে না তাই এই স্ক্যান হয় অনেক দ্রুত এবং কার্যকরী। ইন্সটলেশনের পরপরই এটি একটি ভাইরাস রিকভারী ডাটাবেজ তৈরী করে নেয় যাতে ভাইরাস আক্রমণের পর ক্ষতিগ্রস্থ কম্পিউটারকে এর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
আভাস্ট এন্টিভাইরাস বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন এই সাইট থেকে।
ডাউনলোডের পর একটি ফ্রি রেজিস্ট্রেশনের কোডের জন্য আপনাকে এই পেজ থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এখানে প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ(ব্যবহারকারীর নাম, মেইল এ্যাড্রেস) ইত্যাদি প্রবেশ করিয়ে রেজিস্টারের পর আপনার প্রদত্ত ই-মেইল ঠিকানায় রেজিস্ট্রেশন কোডটি পৌঁছে যাবে। এরপর উইন্ডোজ টাস্কবারে অবস্থিত
আভাস্ট আইকনটিতে রাইট ক্লিক করে About Avast মেনুতে গিয়ে নতুন লাইসেন্স-কী টি বসিয়ে নিন।
আভাস্ট এন্টিভাইরাস এর একটি স্ক্রিণশটঃ
ছবি

স্পাইবট সার্চ এন্ড ডেসট্রয়ঃ ভাইরাস ছাড়াও বর্তমানে আরেকধরণের ক্ষতিকারক সফ্‌টওয়্যার দেখা যায় যা ব্যবহারকারীর অগোচরে কম্পিউটারে অবস্থিত তথ্যসমূহ চুরী করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন হ্যাকার বা ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়াও এক ধরণের স্পাইওয়্যার ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং Habit মনিটর করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেয় যা ব্যবহারকারীর ব্যাক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করে। স্পাইওয়্যারজনিত আরো কিছু সমস্যা হল বিভিন্ন ধরণের পপ-আপ এ্যাড, অযৌক্তিক এরর মেসেজ ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু কিছু স্পাইওয়্যার বিপুল পরিমাণ সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করে কম্পিউটারের গতি মন্থর করে দেয়। স্পাইওয়্যার সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন এন্টি-স্পাইওয়্যার সফ্‌টওয়্যার রয়েছে। এর মধ্যে অত্যন্ত কার্যকর ও বিনামূল্যে প্রাপ্ত একটি সফ্‌টওয়্যার হল স্পাইবট সার্চ এন্ড ডেস্ট্রয়। এর প্রধান বৈশিষ্টগুলো হল নিয়মিত হালনাগাদ(আপডেট), নিরাপত্তাজনিত ফাঁকগুলো নিশ্ছিদ্রকরণ(Immunization), টি-টাইমার প্রটেকশন(উইন্ডোজ ও ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ডিফল্ট সেটিংগুলোকে স্পাইওয়্যারজনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা) ইত্যাদি। এই সফ্‌টওয়্যারটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন এই সাইট থেকে।
স্পাইবট সার্চ এন্ড ডেসট্রয় এর একটি স্ক্রিণশটঃ
ছবি

সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য কিছু সাবধানতাঃ
১। সন্দেহজনক কোন ফাইল ডাউনলোড থেকে বিরত থাকুন... বিশেষ করে .exe এক্সটেনশন এর ফাইল ডাউনলোড করার পূর্বে দেখে নিন ডাউনলোড সোর্সটি নিরাপদ কিনা।
২। অপরিচিত কোন ওয়েবসাইটে বিশেষ প্রয়োজন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ব্যতীত প্রবেশ করবেন না। অপরিচিত কোন সাইটে প্রবেশের পূর্বে গুগলে ওই সাইট সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখুন সাইটটি নিরাপদ ও ভাইরাসমুক্ত কিনা।
৩। কম্পিউটারে কোন সিডি বা বহনযোগ্য কোন হার্ডওয়্যার(ফ্লপি, পেন ড্রাইভ, মেমোরী কার্ড) ইত্যাদি প্রবেশ করানোর সাথে সাথে এন্টিভাইরাস সফ্‌টওয়্যার দিয়ে স্ক্যান করুন। স্ক্যান না করে কখনোই বাইরের কোন ডাটা কম্পিউটারে প্রবেশ করানো উচিৎ নয় কারন এতে ভাইরাস, স্পাইওয়্যারসহ নানা ক্ষতিকারক উপাদান থাকতে পারে।
৪। সর্বক্ষণ উইন্ডোজ ফায়ারওয়াল বা আলাদাভাবে ইন্সটলকৃত কোন ফায়ারওয়াল চালু রাখুন। ফায়ারওয়াল বন্ধ রাখা মানে হ্যাকারদের প্রবেশ উন্মুক্ত করে দেয়া।
৫। এ্যান্টিভাইরাস সফ্‌টওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত হালনাগাদ(আপডেট) করুন। এর ফলে কম্পিউটার নিত্যনতুন অনলাইন হুমকির হাত থেকে নিরাপদ থাকবে। অনেকের কাছে উইন্ডোজ অটোমেটিক আপডেট বিরক্তিকর মনেহয় এবং এটি বেশ কিছু ব্যান্ডউইড্‌থ রিজার্ভ করে রাখে। মাইক্রোসফ্‌টের এই সাইট থেকে পছন্দমত উইন্ডোজের সর্বশেষ আপডেট ইন্সটল করে নিতে পারেন।
৬। শিশুকিশোরের অনলাইন নিরাপত্তার জন্য ওয়েব কনটেন্ট ফিল্টারিং সফ্‌টওয়্যার ব্যবহার করুন। এই সফ্‌টওয়্যার পেতে আপনার ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করুন। এটি বিভিন্ন পর্ণ সাইট ও অন্যান্য ক্ষতিকারক সাইট থেকে শিশুকিশোরদের নিরাপদ রাখবে।
(প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন মানচুমাহারা এবং তানভীর জামান)

আশা করি এই সফ্‌টওয়্যার ও সাবধানতাগুলো সবার কাজে আসবে।
এছাড়াও কারো কোন গুরুত্বপূর্ণ সিকিউরিটি টিপ্‌স জানা থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ছবি

আপডেটঃ ফায়ারওয়্যাল অংশে জোন এলার্ম এর পরিবর্তে কমোডো ফায়ারওয়্যাল এর বর্ণনা দেয়া দেয়া হল, এবং আভাস্ট ও স্পাইবট সার্চ এন্ড ডেস্ট্রয় এর ডাউনলোড লিঙ্ক পরিবর্তন করে নতুন ভার্সনের লিঙ্ক দেয়া হ

Bangla Anubadok Software Link

http://bengalinux.sourceforge.net/cgi-bin/anubadok/index.pl

সফটওয়্যারের স্বাধীনতাযোদ্ধা রিচার্ড স্টলম্যান


| প্রিন্ট |
লিখেছেন বিপ্র রঞ্জন ধর
Saturday, 21 June 2008

স্বাধীনতার আকাঙ্খা প্রতিটি মানুষের মাঝেই আছে। মানবসভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করে আসছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বেও এখন বিচিত্র এক যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ সফটওয়্যারের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। বিচিত্র এই যুদ্ধের মহানায়কের নাম রিচার্ড ম্যাথু স্টলম্যান। লোভী সফটওয়্যার ব্যবসায়ীদের কালো থাবার মুখে তিনিই বিশ্ববাসীকে উচ্চারণ করতে শিখিয়েছিলেন এক সাহসী শ্লোগাণ-সফটওয়্যারের স্বাধীনতা চাই!

১৯৫৩ সালের ১৬ মার্চ নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্ম নেয়া এই রিচার্ড স্টলম্যান প্রথম প্রোগ্রামটি লিখেন হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশনের কিছুদিন পরে। তখন তিনি রকফেলার ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান বিভাগের গবেষনাগারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। তবে ইতোমধ্যে তার ক্যারিয়ার গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানের পথেই এগিয়ে গেছে, যদিও তার তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকরা মনে করতেন তিনি হয়তো জীববিজ্ঞানেই উচ্চশিক্ষা গ্রহন করবেন।

১৯৭১ সালের জুন মাসে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষনাগার একজন প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করার সুযোগ লাভ করেন। একজন হ্যাকার হিসেবেও তার হাতে খড়ি হয় সেখানেই। হ্যাকিংয়ের কথা শুনে মোটেও চমকে উঠবেন না যেন। তখনকার দিনে হ্যাকিংয়ের সংজ্ঞা ছিল একেবারেই অন্যরকম। তখন কম্পিউটার এবং এর নিরাপত্তা সম্পর্কে যারা খুব দক্ষ ছিলেন তাদেরকে হ্যাকার বলা হতো। হ্যাকিংয়ের যাত্রা শুরু এমএইটি’র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষনাগারেই। স্টলম্যান ‘RMS’ নামে খুব অল্প দিনের মাঝে এমআইটি’র হ্যাকার সমাজে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। উল্লেখ্য, ‘RMS’ তার পুরো নাম রিচার্ড ম্যাথু স্টলম্যানের সংক্ষিপ্ত রূপ। হ্যাকার হিসেবে তার বেশ কিছু আলোচিত ঘটনাও আছে। ১৯৭৭ সালে এমএইটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে প্রত্যেক ছাত্রদের কম্পিউটারে লগইন করার জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড দেয়া হয়। যথারীতি স্টলম্যানের এই পাসওয়ার্ডের শৃঙ্খল মোটেও পছন্দ হলো না। তিনি পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে সবার পাসওয়ার্ড তুলে দিয়ে সবাইকে ই-মেইলে জানিয়ে দিলেন। এরই মাঝে স্টলম্যান এমআইটি-তে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শুরু করেছেন।

আশির দশকের শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে কপিরাইটের বাড়াবাড়ি শুরু হয়। এর ফলে অনেক দাম দিয়ে সফটওয়্যার কিনেও ক্রেতারা তা স্বাধীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করেন। শুধু তাই নয় ব্যবসায়ীরা সফটওয়্যার কপি করা বা না কিনে বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোকে ‘চুরি’র মতো নোংরা কাজের সাথে তুলনা করতে শুরু করে। এর মাঝে এমআইটি’র গবেষনাগারেও একটি ঘটনা ঘটে। ১৯৮০ সাল। একদিন স্টলম্যান ৫০ পাতার একটি জরুরী ফাইল প্রিন্ট করতে দিয়েছেন। লেজার প্রিন্টারটি অন্য তলায়। স্টলম্যান গিয়ে দেখেন প্রিন্টারের ট্রে-তে মাত্র চারটি পাতা পড়ে আছে, তাও অন্য আরেকজনের। তার ফাইলের একটা পাতাও প্রিন্ট হয়নি। জ়েরক্স ৯৭০০ মডেলের এই প্রিন্টারটি এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে পাওয়া। স্টলম্যান এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রিন্টার সফটওয়্যারের সোর্স কোডে কিছু পরিবর্তন করলেন যেন প্রিন্টারে ফাইল প্রিন্ট হয়ে গেলে বা প্রিন্টার ব্যস্ত থাকলে ল্যাবের কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা তাৎক্ষনিক বার্তা আকারে দেখায়। এমআইটি’র ল্যাব স্টলম্যানের রূপান্তর করা এই সফটওয়্যারটি প্রত্যাখান করে, কারন এটি অন্য একটি সফটওয়্যারকে রূপান্তর করে তৈরি করা। এই ঘটনাটি সফটওয়্যারের ভবিষ্যত স্বাধীনতাযোদ্ধা স্টলম্যানের উপর বেশ বড়সর প্রভাব ফেলে।

এরই মাঝে এমএইটি’র হ্যাকার সমাজেও ভাঙ্গন ধরেছে। এমএইটির হ্যাকার সমাজের শেষ সদস্য হিসেবে তিনি নন-ডিসক্লোসার এগিমেন্ট স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। এই চুক্তির শর্ত ছিল নিজের ডেভোলপকৃত সফটওয়্যারের সোর্স কোড কাউকে দেয়া যাবে না। রিচার্ড স্টলম্যান এই চুক্তিকে ‘অনৈতিক’ এবং ‘অসামাজিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একটি নিশ্চিত জীবনযাপনের হাতছানিকে দূরে ঠেলে ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে এমআইটি’র প্রোগ্রামারের চাকুরি ছেড়ে দেন। মুক্ত সফটওয়্যার তৈরির লক্ষ্যে পুরোটা সময় গনুহ (GNU) প্রকল্পে ব্যয় করা। গনুহ প্রকল্পের ঘোষনা অবশ্য আগের বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই দিয়েছিলেন। সফটওয়্যারের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর গল্প মোটামুটি এই। কিন্তু শুধু যুদ্ধ শুরু করলে তো হবে না, চাই অস্ত্র, চাই মানুষ…। স্টলম্যান বুঝতে পারছিলেন মানুষের হাতে শুধু উন্মুক্ত সফটওয়্যার তুলে দিলেই হবে না, সেই সফটওয়্যারগুলো চালানোর জন্য একটি উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেমও তো চাই।

১৯৮৫ সাল। মার্চ মাসে প্রকাশিত হয় গনুহ প্রকল্পের ইশতেহার । এই ইশতেহারে গনুহ প্রকল্পের বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার পাশপাশি জানানো হয় ইউনিক্স ভিত্তিক একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কথা। ইউনিক্সের মতো হলেও এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে একদম বিনে পয়সায়। এছাড়াও মুক্ত সফটওয়্যারের আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে সে বছরের ৪ অক্টোবর গঠন করেন ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। মুক্ত সফটওয়্যারের বিতরন এবং রুপান্তর যেন কপিরাইটের হুমকির মুখে না পড়ে সেজন্য স্টলম্যান এক নতুন ধারনার জন্ম দেন যার নাম ‘কপিলেফট’। কপিলেফটের ফলে একটি সফটওয়্যার স্বাধীনভাবে ব্যবহার করা ছাড়াও ব্যবহারকারী এর পরিবর্তন করতে পারবেন, এমনকি এই সফটওয়্যারকে রূপান্তর করে একটি নতুন সফটওয়্যারও তৈরি করা যাবে। এজন্য কারো অনুমতি নিতে হবে না বা এর জন্য কোন প্রকার অর্থও প্রদান করতে হবে না। কপিরাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়, আর অন্যদিকে কপিলেফট ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা বজায় রাখতে সদা সচেষ্ট। তবে এর মূল উন্নয়নকারীর অবদান যেন ক্ষুন্ন না হয় সেজন্য কিছু শর্তও থাকে। উল্লেখ্য, কপিলেফটের ক্ষেত্রে এখন বেশ কিছু লাইসেন্স আছে-GPL, LGPL, FDL। স্টলম্যানের এসব নিত্যনতুন ধারনা অনেকেই আকৃষ্ট করে তুলে। ফলে এ প্রকল্পে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি এবং প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে।

নব্বই দশকের শুরু… গনুহ অপারেটিং সিস্টেম উন্মুক্ত হবার অপেক্ষায়। তবে এর একটি বড় অংশ তখনও বাকী, আর সেই অংশটি হলো অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। সেই কাজটিকে সহজ করে দেন ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিনাস টরভেল্ট। ইউনিক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম ‘মিনিক্স’ নিয়ে শখের বশে কাজ করতে করতে ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে লিনাস তৈরি করে ফেলেন একটি অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। ফলে গনুহ অপারেটিং সিস্টেমের কার্নেল হিসেবে একেই বেছে নেয়া হয়, জন্ম নেয় মুক্ত সফটওয়্যার যুদ্ধের সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র-‘লিনাক্স’! লিনাসের নামানুসারেই এর নামকরন করা হয়। ফলে অনেকেই ধারনা করে বসেন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের পুরোটাই বোধহয় লিনাসের তৈরি করা। আসলে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের বেশির ভাগ অংশ তৈরি না করেও লিনাক্সের সাথে সাথে লিনাক্সের জনক হিসেবে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন লিনাস টরভেল্ট। লিনাক্স আসার পরপরই মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পায়। উন্মুক্ত সোর্সকোড ভিত্তিক এই অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার ব্যবহারকারী এবং প্রোগ্রামারদের সামনে নতুন দ্বার উন্মোচন করে।

স্টলম্যান একজন সাধারন ছাত্রের মতো সস্তা জীবন-যাপনই বেশি পছন্দ করেন। মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা, অং সাং সুচি’র মতো মানুষেরাই তার জীবনে বেশি প্রভাব ফেলেছেন বলে মনে করেন তিনি। ব্যাক্তিগত জীবনে নাস্তিক; জন্মসূত্রে খ্রিষ্টান হলেও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা কখনও পালন করা হয় না। কাজ শেষে অফিসেই ঘুমিয়ে পড়েন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। তার ব্যাক্তিগত সম্পদ বলে তেমন কিছুই নেই। আসলে প্রায় গত তিন দশক ধরে তার ধ্যান-জ্ঞান একটাই, আর তা হলো মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তথ্যপ্রযুক্তির মতো বিশ্ব রাজনীতিকেও বানিজ্যের আওতামুক্ত করার পক্ষপাতী স্টলম্যান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা সর্বাগ্রে লোভী ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়াতেই গণতন্ত্রের মুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। তাই ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না হলে গনতন্ত্র তথা মানবতার মুক্তি সম্ভব নয়। এছাড়াও মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনের অগ্রদূত স্টলম্যান মনে করেন সফটওয়্যারের বানিজ্যিকরন পৃথিবীর প্রধান সমস্যা নয়। তাঁর মতে, বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর সমস্যা হলো পরিবেশ দূষন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming)।

মুক্ত সফটওয়্যার সম্পর্কে স্টলম্যান প্রচুর প্রবন্ধ লিখেছেন। তার সবেচেয়ে বিখ্যাত প্রবন্ধের নাম-কেন সফটওয়্যারের মালিক থাকা উচিত নয়? অনেকেই বলেন, মুক্ত সফটওয়্যার মানে হচ্ছে মেধার অপচয় বা মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি করে কোন লাভ নেই । তাদের এসব প্রশ্নের সব জবাব আছে এই প্রবন্ধে। এ পর্যন্ত অনেক ভাষায় এই প্রবন্ধটি অনুবাদ করা হয়েছে। সায়েন্স ফিকশনের ভক্ত স্টলম্যান দুটি সায়েন্স ফিকশনও লিখেছেন। সফটওয়্যার কপিরাইট এর প্যাটেন্টের বিরূদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ২০০৬ সালে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কেরলায় রাজ্য সরকারের স্টলম্যানের এক বৈঠকের পর সরকার এই রাজ্যের প্রায় সাড়ে বারো হাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম মাইক্রোসফট উইন্ডোজের বদলে উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার সিদ্ধান্ত নেয়।

সফটওয়্যার কপিরাইট আর প্যাটেন্টের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে তিনি প্রথম বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছিলেন মুক্ত সফটওয়্যারের স্বপ্ন। তার স্বপ্ন ছুঁয়ে গেছে সমস্ত বিশ্বকে। এর বড় উদাহরন সম্ভবত আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রযুক্তি বিমুখ একটি জাতি হিসেবে আমাদের দুর্নাম থাকলেও আমাদের তরুন সমাজ এখন স্টলম্যানের মন্ত্রে দীক্ষিত। আসলে যেকোন যুদ্ধে অনেকেই অংশগ্রহন করে, তবে সেই যুদ্ধ কাউকে না কাউকে শুরু করতে হয়। সেই শুরুটা তিনিই করেছেন। তাহলে এই সফটওয়্যার যুদ্ধের মহানায়ক তিনি ছাড়া আর কে হবেন?

[লেখাটি কিছুটা পরিবর্তিত রূপে বাংলা উইকিতে অন্তর্ভুক্ত। ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত]