পিএইচপি লার্নিং সিরিজ-১

প্রোগ্রামিং এর উপর লেখার ইচ্ছা ছিল অনেক আগে থেকেই। তবে ব্যস্ত থাকার কারনে সময় করে উঠতে পারিনি এতদিন। তাছাড়া জটিল বিষয় নিয়ে লিখতে হলে বিষয়টি নিয়ে একটু চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন ও বেশী হয়।

এ সিরিজটিতে চেষ্টা করবো নতুনদের জন্য ফিডব্যাক হিসেবে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে। এজন্য কমেন্ট করতে পারেন এ টপিকে।

তাহলে আসুন শুরু করি।

পিএইচপি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা

পিএইচপি উৎপত্তির ইতিহাস জানতে হলে আমাদেরকে ১৯৯৫ সালের দিকে তাকাতে হবে যখন রাসমাস লারডর্ফ নামের একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার তার অনলাইন রেজুমে/সিভি কতজন ভিজিটর দেখেছেন/পড়েছেন তা দেখার জন্য একটি পার্ল/সিজিআই স্ক্রিপ্ট তৈরী করেন। স্ক্রিপ্টটি মূলত দুটি কাজ করত। একঃ ভিজিটরদের তথ্য নিবন্ধন করে রাখা এবং দুইঃ ভিজিটরদের পরিদর্শন সংখ্যার তথ্য ওয়েব পেজে প্রদর্শন করা। বর্তমানে যে ওয়েব ভুবনের সাথে আমরা পরিচিত তা তখনকার দিনে শৈশব অতিক্রম করছে বলা যায় তাই এ ধরনের টুলস তখন পাওয়া যেত না, এবং এর ফলশ্রুতিতে ওয়েবসাইট পরিদর্শনকারীগন লারডর্ফ এর স্ক্রিপ্ট সম্পর্কে জানার জন্য ইমেইল করতে লাগলেন। পরবর্তীতে লারডর্ফ তার পারসোনাল হোম পেজ (পিএইচপি) নামে খ্যাত টুলস বিতরন করা শুরু করেন।

এরপর লারডর্ফ উৎসাহিত হয়ে ল্যাংগুয়েজটি দ্রুত উন্নয়ন করতে থাকেন এবং ১৯৯৭ এর নভেম্বরে পিএইচপি ২.০ সংস্করন প্রকাশ করেন। পিএইচপি এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে এ ভার্সনটিতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের প্রোগ্রামারগন প্রচুর পরিমানে উন্নয়ন ও উৎকর্ষতা সাধন করতে থাকেন।

তাই এ নতুন রিলিজটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পায় এবং একটি কোর ডেভেলপার টিম লারডর্ফ এর সাথে যোগদান করে পিএইচপি এর উন্নয়ন কাজ শুরু করে। তারা এইচটিএমএল এর পাশাপাশি সরাসরি পিএইচপি কোড অন্তর্ভুক্ত করার মূল কনসেপ্টটি অক্ষুন্ন রাখেন এবং নতুন করে পিএইচপি ইঞ্জিনটি লেখা হয় যার ফলে পিএইচপি ৩.০ সংস্করন জন্মলাভ করে। জুন, ১৯৯৮ এ ভার্সন ৩.০ প্রকাশের সময় সারাবিশ্বে প্রায় ৫০,০০০ এর ও বেশী ব্যবহারকারী তাদের ওয়েব পেজে পিএইচপি ব্যবহার করছিলেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সালেই পিএইচপি (পারসোনাল হোম পেজ) নামের ভিন্নরূপ বা পিএইচপি হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসের (পিএইচপি) নামটি চালু হতে শুরু করে।

পরবর্তী দু’বছরে এর উন্নয়ন অবিশ্বাস্য গতিতে চলতে থাকে, শত শত নতুন ফাংশন যোগ হতে থাকে এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯৯৯ সালের শুরুতে নেটক্রাফট থেকে প্রকাশিত (http://www.netcraft.com/) এক পরিসংখ্যান রিপোর্ট থেকে এর ব্যবহারকারী ১০ লক্ষের ও বেশী বলে জানা যায় যা একে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজের মর্যাদা এনে দেয়। এটির জনপ্রিয়তা ডেভেলপারদের প্রত্যাশাকে ও ছাড়িয়ে যায় এবং খুব দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ব্যবহারকারীরা পিএইচপিকে অনেক বড় বড় এন্টারপ্রাইজ লেভেল এপ্লিকেশনে ব্যবহার করতে চান যা শুরুর দিকে প্রত্যাশা করা হয়নি। দুজন কোর ডেভেলপার- জিভ সুরাস্কি এবং এন্ডি গাটম্যানস - নতুনভাবে পিএইচপি উন্নয়ন কাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন, নতুন পিএইচপি পার্সার লেখা হয়, যা জেন্ড স্ক্রিপ্টিং ইঞ্জিন নামে অভিহিত করা হয়। এসব কাজের সম্মিলিত ফলাফল ২২মে, ২০০০ সালে পিএইচপি ৪ রিলিজে প্রতিফলিত হয়।

পিএইচপি ৪ রিলিজে এন্টারপ্রাইজ লেভেলে কাজ করার জন্য বেশ কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করা হয় যেমন- অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড সাপোর্ট, উন্নতমানের রিসোর্স হ্যান্ডলিং ক্ষমতা, নিজস্ব সেশন হ্যান্ডলিং সাপোর্ট, বিভিন্ন এনক্রিপশন সুবিধা সাপোর্ট, উইন্ডোজের জন্য COM/DCOM সাপোর্ট, নিজস্ব জাভা সাপোর্ট, পার্ল এর সাথে সাযুজ্যপূর্ন রেগুলার এক্সপ্রেশান লাইব্রেরী সাপোর্ট (PCRE) ইত্যাদি।

ইসরায়েল ভিত্তিক জেন্ড টেকনোলজি লিমিটেড জেন্ড ইঞ্জিন উন্নয়নের সাথে সাথে পিএইচ প্রোগ্রাম উন্নয়ন ও বিতরনের জন্য আরো কিছু টুলস বিতরন শুরু করে। এগুলির মধ্যে রয়েছে জেন্ড স্টুডিও, জেন্ড এনকোডার, জেন্ড অপটিমাইজার ইত্যাদি।

বর্তমানে পিএইচপি এর সর্বাধুনিক সংস্করন হচ্ছে ৫.০। এ ভার্সনে ও কতিপয় সুযোগ/সুবিধা যোগ করা হয়েছে যেমন- বিস্তৃত ও উন্নত অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড সুবিধা, ট্রাই/ক্যাচ এক্সসেপশন হ্যান্ডলিং সুবিধা, উন্নতমানের স্ট্রিং হ্যান্ডলিং সুবিধা, উন্নতমানের এক্সএমএল(XML) ও ওয়েব সেবার সাপোর্ট ইত্যাদি। পিএইচপি বর্তমানে তাই এপাচির সবথেকে জনপ্রিয় মডিউলে পরিনত হয়েছে এবং এর ফিচারসমূহের উন্নতি ও লক্ষ্যনীয়।


পিএইচপি, মাইএসকিউএল এবং এপাচি ওয়েব সার্ভার ইনস্টল ও কনফিগার করা


এবার আসুন পিএইচপিতে কাজ করার জন্য আপনার কম্পিউটারকে কিভাবে উপযোগী করবেন তা দেখি। পিএইচপি একটি স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ তাই এতে কোন কম্পাইলারের প্রয়োজন নেই। উইন্ডোজে xampp বা xampplite এর মত কোন বান্ডেলড প্যাকেজ ডাউনলোড ও ইনস্টল করে নিন ওয়েব থেকে। এগুলিতে পিএইচপি, মাইএসকিউএল, এপাচি সমন্বিতভাবে দেয়া থাকে। আলাদাভাবে কোন কিছু ইনস্টলের দরকার হয় না। এগুলি ইনস্টলের পর চালু করুন এর ইনস্টলেশন ফোল্ডারে অবস্থিত xampp_start আইকনে ক্লিক করে। তারপর এপাচি এবং মাইএসকিউএল চালু করুন এর কন্ট্রোল প্যানেল থেকে।

লিনাক্সে ব্যাপারটি আরো সহজ। ডেবিয়ান জিএনইউ/লিনাক্স, উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট ইত্যাদি ডিস্ট্রিবিউশনগুলিতে মাত্র কয়েকটি কমান্ডের মাধ্যমে এপাচি, পিএইচপি, মাইএসকিউএল ইনস্টল করা যায়। এজন্য টার্মিনালে লগইন করুন রুট ইউজার হিসেবে তারপর কমান্ড দিনঃ

#aptitude install apache2

#aptitude install apache2-mpm-prefork

#aptitude install mysql-server5.0 mysql-client5.0 php5-mysql

#aptitude install phpmyadmin

মাইএসকিউএল এবং পিএইচপি মাই এডমিন ইনস্টল করে রাখা ভাল। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

ইনস্টল শেষ হলে ফায়ারফক্স বা ব্রাউজার চালু করুন এবং এড্রেসবারে লিখুন

http://localhost

সঠিকভাবে ইনস্টল হলে সাকসেস মেসেজ প্রদর্শন করবে।

মাইএসকিউএলকে সঠিকভাবে কনফিগার করার জন্য php.ini ফাইলটি টেক্সট এডিটরে (যেমন ভিম/জি-এডিট) খুলুন এবং

;extension=php_msql.so

উপরের লাইনটি খুজে বের করে ; চিহ্নটি মুছে দিন।

মাইএসকিউএলে গ্রাফিক্যালি কাজ করার জন্য ব্রাউজারের এড্রেসবারে লিখুন

http://localhost/phpmyadmin

অন্যান্য ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য ম্যানুয়াল দেখুন।

পিএইচপি কমান্ড প্র্যাকটিসের জন্য জিনি (geany) এডিটর ইনস্টল করে নিন লিনাক্স মেশিনে। পরবর্তীতে আরো উন্নত আইডিই যেমন নেটবিনস, কে-ডেভেলপ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রথম প্রথম বেসিক টেক্সট এডিটর যেমন কেরাইট, জিএডিট, জিনি ইত্যাদি ব্যবহার করাই ভাল।

উইন্ডোজ টেক্সট প্যাড, নোট প্যাড ইত্যাদি এডিটর ব্যবহার করতে পারেন।

মেশিন কনফিগারের পর এবার আমরা পিএইচপি বেসিক শেখা শুরু করবো যেকোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার মতই।

আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

1 comments:

Post a Comment