Showing posts with label Concept-Linux-Debian Linux. Show all posts
Showing posts with label Concept-Linux-Debian Linux. Show all posts

লিনাক্স কি, ডেবিয়ান লিনাক্স এর ইতিকথা

Linux & Debian Linux in Bangla

লিনাক্স কি?

লিনাক্স একটি ইউনিক্স টাইপের উম্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম যেটি লিনাক্স টোরভাল্ডস তৈরী করেন যা পরবর্তীতে সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতাগন কর্তৃক উন্নয়ন করা হচ্ছে। এটি জিএনইউ জেনারেল পাবলিক লাইসেন্সের আওতায় তৈরী করা হয়েছে ফলে এটি সমগ্র বিশ্বে সবার কাছে সহজলভ্য।

লিনাক্সের গঠন কাঠামো


লিনাক্স এর গঠনকাঠামোতে চারটি প্রধান উপাদান বিদ্যমানঃ
  • লিনাক্স কার্নেল অংশ
  • ফাইলের গঠন কাঠামো
  • একের অধিক ব্যবহারকারী ধারনা
  • এবং গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ব্যবস্থা
ডেবিয়ান লিনাক্স এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ছবি
ডেবিয়ান লিনাক্স ১৯৯৩ সনে পারদিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আয়ান মারডক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয় যিনি ডেবিয়ান মেনিফেস্টোর প্রবর্তক। এ মেনিফেস্টোর মূল ভাবধারা ছিল এটি হবে এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম যা উম্মুক্ত পদ্ধতির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে যেটি মূলত লিনাক্স এবং জিএনইউ এরই মূল স্পিরিট। তিনি নামটি প্রবর্তন করে তার মেয়েবন্ধু ডেবরা(পরবর্তীকালে স্ত্রী) এর নাম এবং তার নামের প্রথম অংশের সমন্বয়ে যার উচ্চারন হল ডেব-ই-এন।

ডেবিয়ান প্রকল্পটি প্রথমদিকে খুব ধীরগতিতে অগ্রসর হতে থাকে এবং সর্বপ্রথম ভার্সন ০.৯এক্স ভার্সন বের হয় ১৯৯৪ এবং ১৯৯৫ সালের দিকে। অন্য আর্কিটেকচারের জন্য রিলিজ দেয়া শুরু হয় ১৯৯৫ সালেই এবং ১৯৯৬ সালে ১.এক্স ভার্সন রিলিজ পায়। ১৯৯৬ সালে ব্রুস পেরেনস আয়ান মারডকের স্থালাভিষিক্ত হন প্রোজেক্ট লিডার হিসেবে। সহযোগী ইয়ান শুয়েজলার এর পরামর্শক্রমে তিনি ডেবিয়ান এর সামাজিক চুক্তির রূপরেখা এবং ডেবিয়ান উম্মুক্ত সফটওয়্যার নির্দেশনা প্রনয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন যা ডিস্ট্রিবিউশনটির উন্নয়নে নতুন এক মৌলিক অঙ্গীকার হিসেবে স্বীকৃত হয়। তিনি এর সহযোগী সদস্য প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির ব্যাপারে ও সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করেন।

ব্রুস পেরেনস ১৯৯৮ সালে glibc নির্ভর ডেবিয়ান-২.০ রিলিজের পূর্বেই এ প্রকল্প হতে অব্যাহতি নেন। এ সময়ে প্রকল্পের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য উদ্যেগ নেয়া হয় এবং আরো দুটি ২.এক্স রিলিজ বের হয় যেখানে আরো বেশী প্যাকেজ এবং আরো বেশী আর্কিটেকচার সাপোর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়। এ সময়েই APT কে প্রয়োগ করা হয় এবং ডেবিয়ান জিএনইউ/হার্ড, যেটি প্রথম নন-লিনাক্স কার্নেলে অর্ন্তভূক্ত হয়, তার ও ভালোভাবে অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে ডেবিয়ান লিনাক্স এর উপর ভিত্তি করে প্রথম ডিস্ট্রিবিউশন কোরেল লিনাক্স এবং স্টরমিক্স এর স্টর্ম লিনাক্স বের হয়। যদি ও এখন আর উন্নয়ন করা হয় না কিন্তু এ ডিস্ট্রিবিউশন দু’টিই ডেবিয়ান এর উপর ভিত্তি করে তৈরী প্রথম ডিস্ট্রিবিউশন হিসেবে স্বীকৃত।

২০০০ সালের শেষের দিকে এ প্রকল্পের আর্কাইভ এবং রিলিজ ব্যবস্থাপনায় বড়সড় পরিবর্তন নিয়ে আসা হয় যা সফটওয়্যার আর্কাইভ প্রসেসকে নতুন প্যাকেজ টুলসের আওতায় নিয়ে আসে। এরই ফলে টেস্টিং ডিস্ট্রোএর একটি ধারা গড়ে ওঠে যা পরবর্তী স্ট্যাবল রিলিজের জন্য একটি ভিত হিসেবে কাজ করতে থাকে। ২০০১ সালে ডেভেলপারগন একটি বার্ষিক কনফারেন্স এর আয়োজন শুরু করেন যা ‌‍'ডেবকনফ নামে' পরিচিত হয়। এটি ডেভেলপার এবং টেকনিক্যাল ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন রূপে কাজ করতে থাকে।

ডেবিয়ান রিলিজসমূহ


ডেবিয়ান এর রিলিজসমূহের মজার দিকটি হচ্ছে এর রিলিজের নামগুলি পিক্সার কর্তৃক তৈরীকৃত মুভি টয় স্টোরি এর চরিত্রসমূহ হতে নেয়া হয়েছে। কিছুটা ছোট বাচ্চাদের পছন্দ মত হয়ে গেছে তাই না? আসুন দেখে নেয়া যাক এর রিলিজগুলি এক নজরেঃ

রিলিজ রিলিজের তারিখ কোড নাম
Debian 5.0 (Latest Stable) 14 February 2009 Lenny
Debian 4.0 8 April 2007 Etch
Debian 3.1 6 June 2005 Sarge
Debian 3.0 19 July 2002 Woody
Debian 2.2 15 August 2000 Potato
Debian 2.1 March 9th, 1999 Slink
Debian 2.0 July 24th, 1998 Hamm
Debian 1.3 June 5th, 1997 Bo
Debian 1.2 December 12th, 1996 Rex
Debian 1.1 June 17th, 1996 Buzz
Debian 1.0 Never released -
Debian 0.93R6 November 1995 -
Debian 0.93R5 March 1995 -
Debian 0.91 January 1994 -
Debian 0.01 through 0.90 August-December 1993

ওপেন সোর্স আন্দোলন এবং লিনাক্স

(লেখাটি সি-নিউজ নামের একটি পত্রিকায় কাভার স্টোরী হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল বছর কয়েক আগে)

মানুষ জন্মায় মুক্ত কিন্তু সবর্ত্রই সে শৃঙ্খলিত। মুক্তির আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন। ভাষা স্বাধীনতা আর বাক স্বাধীনতা মানুষের চিরন্তন দাবী। এমনই এক দাবীর নাম ওপেন র্সোস আন্দোলন। ওপেন সোর্স, যার অর্থ হচ্ছে, কোন প্রোগ্রামের সাথে তার সোর্স কোড - অর্থাৎ যে প্রোগ্রামিং ভাষায় সফটওয়্যারটি নির্মাণ করা হয়েছে - তার পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। আর ওপেন সোর্স আন্দোলন বলে : একজন কম্পিউটার, তদুপরী সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর এই অধিকার থাকা উচিত যাতে সে তার ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি নিজের প্রয়োজন মতো পরিবর্তন সাধন করে ব্যবহার করতে পারবে। আর এভাবেই ওপেন সোর্স আন্দোলন যা কিনা বাক স্বাধীনতার সমার্থক - কম্পিউটার ব্যবহারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। ওপেন সোর্স আন্দোলনের পুরোধা হচ্ছে জিএনইউ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। আর লিনাক্স এবং অন্যান্য ওপেন সোর্স সফটওয়্যার গুলো এরই পতাকা তলে দাঁড়িয়ে।

লিনাক্স কি?
বাংলাদেশে লিনাক্স নামটি এখন আর নতুন নয়। অনেক দিন ধরে গুঞ্জনের মতো শুনতে পাওয়া নামটি এখন কম্পিউটার ব্যবহার কারীদের পরিচিত শব্দের তালিকায় পড়ে। সোজাসুজি ভাবে লিনাক্সের সংগা দিতে গেলে বলা যায় : লিনাক্স হচ্ছে একটি ‘অপারেটিং সিস্টেম কার্ণেল’। এই পর্যায়ে এসে আরো একটি জিনিস ব্যাখ্যা করতে হয় : ‘অপারেটিং সিস্টেম কার্ণেল’ হচ্ছে কোন একটি অপারেটিং সিস্টেমের (যার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সফটওয়্যার তার কাজ কর্ম সাধন করে থাকে) মূল অংশটি। কিন্তু অনেক ব্যবহার কারী লিনাক্স বলতে কোন নির্দিষ্ট একটি ডিস্টিবিউশন যেমন রেডহ্যাট, সুসি, স্ল্যাকওয়্যার, ডেবিয়ান ইত্যাদি বুঝে থাকেন। আসলে মূল লিনাক্সটিকে যদি হৃৎপিন্ডের সাথে তুলনা করা যায় তাহলে এই সমস্ত কোম্পানীকে এবং সেই সাথে ‘জিএনইউ’কে শরীরের অন্যান্য অংশের প্রস্তুতকারক হিসেবে তুলনা করা যায়।

ওপেন সোর্স : লিনাক্সের মেরুদন্ড
কম্পিউটার জগতের পূর্বের দিনগুলোতে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল অল্প। কিন্তু তাদের মধ্যে একতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ছিল অতুলনীয়। ১৯৭১ সালের দিকে রিচার্ড স্টলম্যান যখন এমআইটিতে তার ক্যারিয়ার শুরু করলেন তখন এমনই একটি পরিবেশ বিদ্যমান ছিল। তখন এমনকি বিভিন্ন কোম্পানী ফ্রি সফটওয়্যারও বিতরন করত। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রোগ্রামাররা নিজেদের সমস্যা সমাধান করে নিত।

কিন্তু নব্বইয়ের দশকে (১৯৮০ সালের শুরুতে) ডেস্কটপ পিসির ব্যাপক বিস্তারের পর বিভিন্ন কোম্পানী স্বত্ত্বাধীকার সম্বলিত সফটওয়্যার বাজারজাত করতে শুরু করে। এর মানে দাঁড়ায় সফটওয়্যারগুলোর একটি ‘মালিক’ রয়েছে, আর তাই এর ব্যবহারকারীরা পারস্পরিক সাহায্যে হয়ে পড়েন বাধাগ্রস্থ। আর এভাবেই ১৯৮৩ সালের দিকে রিচার্ড স্টলম্যানের হাত ধরে জিএনইউ আন্দোলনের সুত্রপাত হয়।
এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্রি এবং যোগ্যতা অনুসারে গুনাগুন সম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরী করা। যেহেতু সব সফটওয়্যার রান করতে একটি অপারেটিং সিস্টেম অপরিহার্য তাই এই আন্দোলন, অর্থাৎ জিএনইউ নামক এই প্রতিষ্ঠান একটি ইউনিক্স ভিত্তিক ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম তৈরীর লক্ষ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। একটি সম্বয়ংস্বম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম তৈরীতে কি কি প্রয়োজন তার একটি তালিকা তৈরী করে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় এবং সেটি পূরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চালু করা হয়। তখন জিএনইউ এর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাক্তি বর্গ এবং ফ্রি সফটওয়্যার কোম্পানী এই আন্দোলনের সাথে একাত্ত্বতা প্রকাশ করে এবং উক্ত তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন সফটওয়্যার নির্মান শুরু করে।

ফ্রি সফটওয়্যার - মানে স্বাধীন সফটওয়্যার :
ওপেন সোর্সের ক্ষেত্রে ফ্রি সফটওয়্যার মানে হচ্ছে সফটওয়্যার ব্যবহার কারীর স্বাধীনতা| সফটওয়্যারটি আপনি বিনামূল্যে পেতেও পারেন আবার নাও পারেন। মূল্য দিয়ে কিংবা না দিয়ে যেভাবেই সফটওয়্যারটি আপনার হাতে আসুক আপনার সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে তিনটি সুনিশ্চিত স্বাধীনতা থাকতে হবে। প্রথমত, প্রোগ্রামটির কপি বন্ধু-বান্ধব এবং সহকর্মীদের মধ্যে বিতরনের স্বাধীনতা| দ্বিতীয়ত, নিজের ইচ্ছেমত প্রোগ্রামটি পরিবর্তনের স্বাধীনতা - অর্থাৎ প্রোগ্রামটির সোর্স কোড ব্যবহারের স্বাধীনতা| তৃতীয়ত, পরিবর্তীত এবং উন্নততর ভার্সন পুনরায় বিতরনের অধিকার - যাতে করে বৃহত্তর ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন হয়। এই সমস্ত কিছু মেনে যে সমস্ত সফটওয়্যার প্রকাশিত হয় তাদের ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বলা হয়ে থাকে।

লিনাক্স এবং জিএনইউ:
ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ হেলসিঙ্কিতে অধ্যয়নরত লিনাস টোরভাল্ড নামক এক যুবক অনেকটা শখের বশেই মিনিক্স (ইউনিক্সে ছোটখাট একটি ভার্সন) নামক একটা অপারেটিং সিস্টেম ঘাঁটতে ঘাঁটতে তৈরী করে ফেলেন বর্তমান লিনাক্স কার্নেলের আদি র্ভাসন। ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেবার মত একটি সময় হচ্ছে ১৯৯১ সালের আগস্ট মাস, যখন লিনাস মিনিক্স ইউজার গ্রুপে দুরুদুরু বুকে একটি ম্যাসেজ পোস্ট করেন অন্যান্যদের কাছে তার তৈরী করা সিস্টেমটির ভাল মন্দ যাচাই করার প্রয়াসে। তখন পর্যন্ত তার তৈরীকৃত কার্নেল ভার্সন ০.০২ জিএনইউ এর কিছু কিছু সিস্টেম সহ মোটামুটি চলতে পারত।

১৯৯০ সালের দিকে যখন জিএনইউ একটি পূর্ণাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম প্রকাশ করার জন্য প্রায় প্রস্তুত, কেবল মাত্র কিছু জিনিস এবং একটি বড় অংশ - অপারেটিং সিস্টেম কার্ণেল তৈরী বাকি তখন সেই অভাবটি পূরণ করে দেয় লিনাস টোরভাল্ডের তৈরী করা লিনাক্স। জিএনইউ এর নিজস্ব কার্ণেল ‘জিএনইউ হার্ড’ তখনও একেবারে গোড়ার অবস্থায়। আর তারপর পরই প্রকাশিত হয় এদুয়ের মিলিত মিলিত অপারেটিং সিস্টেম ‘জিএনইউ/লিনাক্স’। অনেকে যদিও মনে করে থাকেন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের পুরোটাই লিনাস টোরভাল্ডের তৈরী করা - কিন্তু আসলে এর বেশীর ভাগ অংশই তৈরী করেছিল জিএনইউ প্রতিষ্ঠানটি। এরপর বিভিন্ন কর্মাশিয়াল প্রতিষ্ঠান, যেমন রেডহ্যাট, স্ল্যাকওয়্যার, ম্যানড্রেক, সুসি, ডেবিয়ান এই অপারেটিং সিস্টেমকে ব্যবহার উপযোগী করে সুন্দর মোড়কে উপস্থাপন করতে থাকে।

ইতিমধ্যেই লিনাক্সের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। রেডহ্যাট সফটওয়্যারের লিনাক্স ১৯৯৬ সালে সেরা ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেমের পুরুস্কার লাভ করে ইনফোওর্য়াল্ড - ট্রেড ম্যাগাজিনের কাছ থেকে। এপ্রিলেই রিসার্চাররা লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরীতে লিনাক্স ব্যবহার করে ৬৮টি পিসিতে সিঙ্গেল প্যারালাল প্রসেসিং ব্যবহার করে এটমিক শক ওয়েভ সিমিউলেট করে। এই নিজেদের তৈরী সুপার কম্পিউটারটির দাম হয় কমার্সিয়াল সুপার কম্পিউটারের তুলনায় মাত্র ১০ ভাগের এক ভাগ। এটি প্রতি সেকেন্ডে ১৯ বিলিয়ন ক্যালকুলেশন পর্যন্ত গতি লাভ করে অন্যতম দ্রুত গতির সুপার কম্পিউটার হিসাবে নিজেকে প্রমান করে। তিন মাস পরেও এটিকে কখনো রিবুট করতে হয় নি রিসার্চারদের।

আজকেও লিনাক্সের আবেদন দিন দিন বাড়ছে। কমার্সিয়ালভাবে লিনাক্সের যেসব ডিস্ট্রিবিউশন আসছে তা দারুন কাস্টোমাইজেবল চেহারা, স্টেবিলিটি নিয়ে আসছে যেটি মেইন স্ট্রিম অপারেটিং সিস্টেমের জায়গা খুব সহজেই দখল করে নিতে পারে।

ফাড এবং মাইক্রোসফট
মাইক্রোসফট এবং তার তাবেদাররা প্রাথামিক লিনাক্স দেখে একটি বিশেষণ প্রয়োগ করে এবং লিনাক্স বিরোধী প্রচারনায় উদ্যোগী হয়ে ওঠে। বিশেষনটি হচ্ছে ফাড (FUD) যেটি সমন্বিত ভাবে ‘অস্থিরতা’, ‘প্রত্যাশাতাহীনতা’ এবং ‘সন্দেহ’ (Frustration, Uncertainty & Doubt ) এই তিনটিকে বোঝাবার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। যদিও লিনাক্স প্রথম দিকে অনেকখানি অসম্পূর্ণ এবং কমান্ড লাইন ভিত্তিক শক্ত একটি অপারেটিং সিস্টেম ছিল, ক্রমেই সে অবস্থা কাটিয়ে উঠে লিনাক্স পরিনত হয়েছে সহজ, মনোমুগ্ধকর এবং দারুন স্টেবল একটি অপারেটিং সিস্টেমে। মাইক্রোসফটের এহেন প্রচারনায় ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করলেও চলতি বছরের লিনাক্স এক্সপো ২০০২ এ মাইক্রোসফটের একবারে গোটা একটা স্টল দখল করে বসাতে প্রমান হয় খোদ মাইক্রোসফট লিনাক্স সর্ম্পকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে বাধ্য হয়েছে।

এক খ্যাপা পেঙ্গুইনের গল্প:
বছর দশেক আগেও লিনাক্স ছিল ন্যুনতম হার্ডওয়্যার সার্পোট নির্ভর কমান্ড লাইন ভিত্তিক একটি জটিল ধরনের অপারেটিং সিস্টেম । বিভিন্ন কাজ করার জন্য এতে দু অক্ষরের কিছু কমান্ড টাইপ করে সারতে হত। উইন্ডোজের পূর্ববতী ডস যেমনটি ছিল দেখতে ঠিক তেমনি হলেও ডসের চেয়ে ছিল হাজার গুনে শক্তিশালী। উইন্ডোজে কিংবা ম্যাক ওএসে (ম্যাকিন্টোশ পিসিতে ব্যবহার উপযোগী অপারেটিং সিস্টেম) যেমনটি যেকোন অপারেশন মাউস হাতে নিয়েই করে ফেলা সম্ভব তেমনটি মোটেও সম্ভব ছিল না লিনাক্সে। এই ব্যাপারটাই লিনাক্সকে ডেস্কটপ ইউজারদের কাছ থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছিল। তদুপরি লিনাক্সের প্রাথমিক লক্ষ্যই ছিল সার্ভার সিস্টেম। তাই ডেস্কটপের দিক থেকে লিনাক্স জনপ্রিয়তা না পেলেও স্ট্যাবিলিটি, দূর্ভেদ্যতা এবং সাশ্রয় এই সমস্ত দিক বিবেচনা করে সার্ভার সিস্টেমের বেশীরভাগই পরিচালিত হতে লাগল লিনাক্স সিস্টেম দ্বারা। দিনে দিনে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্যবহারকারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শে লিনাক্স হয়ে উঠতে লাগল দারুন শক্তিশালী এবং দারুন কাস্টোমাইজেবল একটি অপারেটিং সিস্টেমে। পাশাপাশি এই সেচ্ছাসেবীরা লিনাক্সের জন্য বিভিন্ন রকম হার্ডওয়্যারের ড্রাইভার প্রস্তুত করে লিনাক্সকে করেছে হার্ডওয়্যারের দিক থেকে স্বনির্ভর । বিভিন্ন রকম প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের লিনাক্স ভার্সন প্রকাশ হতে শুরু করেছে বলে এর সফটওয়্যারের সম্ভারও হয়ে উঠেছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে লিনাক্সের বিভিন্ন পরিবেশক যেমন রেডহ্যাট, ম্যানড্রেক ইত্যাদি কোম্পানী গুলো সার্ভার সিস্টেমের পাশাপাশি ডেস্কটপ ইউজারদের কথা চিন্তা করে প্রকাশ করতে শুরু করেছে খুব সহজ, শক্তিশালী এবং স্টেবল এক একটি রিলিজ। তদুপরি সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট খুব কম এবং বেশীরভাগ হার্ডওয়্যারই সাপোর্ট করে বলে আদ্যিকালের বা বর্তমানের যেকোন পিসিতেই এটি কাজ করে চমৎকারভাবে। তাই অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় লিনাক্সের লোগো বা অফিসিয়াল মাসকট হাশিখুশি পেঙ্গুইনটি যেন খ্যাপা ভঙ্গিতে দখল করতে চলেছে দুনিয়া।

লিনাক্স লোগো - টাক্স
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের লোগোটি হচ্ছে একটি পেঙ্গুইন যার নাম হচ্ছে টাক্স। এটিই লিনাক্সের অফিসিয়াল মাসকট। লিনাক্সের এই পেঙ্গুইন লোগো সম্পর্কে এর স্রষ্টা লিনাস ট্রোভাল্ডের বক্তব্য অনেকটা এরকম :
অন্যান্য লোগোগুলো ছিলো খুবই বোরিং এবং আমার মনের মতো ছিলো না মোটেই। লিনাক্স কর্পোরেট লোগোর জন্য আমি খুজছিলাম এমন কিছু যা হবে মজার এবং লিনাক্সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একটা মোটাসোটা পেঙ্গুইন, খাওয়া দাওয়া শেষ করে বসে আসে এরকম একটা ছবি পুরোপুরি আমার পছন্দের সাথে মিলে যায়। তবে পেঙ্গুইনটিকে খুব সিরিয়াসভাবে নেওয়ার কিছু নেই। এটি অনেকটা মজা করার জন্য। কেউ কেউ আমাকে বলে থাকে যে একটা মোটাসোটা পেঙ্গুইন কখনোই লিনাক্সের যে আভিজাত্য তার সাথে ঠিক খাপ খায়না। তাদের জন্য বলছি, তারা সম্ভবত চুপচাপ পেঙ্গুইনই দেখেছে, কিন্তু দেখেনি প্রতি ঘন্টায় ১০০ মাইল বেগে দৌড়ে আসা রাগী পেঙ্গুইনের আক্রমন। দেখলে তারা এধরনের মন্তব্য করার সাহসই পেতো না।

উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য লিনাক্স:
দূর্ভাগ্যবশতঃ বর্তমানে যেসমস্ত পিসি বিক্রিত হয় তার সবগুলোতেই উইন্ডোজ পূর্বেই ইনস্টল করা থাকে বলে বেশীরভাগ ব্যবহার কারী শুরু থেকেই উইন্ডোজ ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যান। পরবর্তীতে জড়তা, ভীতি এবং অনিশ্চয়তা থেকে আসে লিনাক্সের প্রতি অনীহা। বর্তমান লিনাক্স ভার্সন গুলো এতটাই সহজ আর ডেস্কটপ ইউজারদের জন্য এতটাই সুবিধা করে দিয়েছে যে আপনি এটিকে পছন্দ করতে বাধ্য। সহজ ইনস্টলেশন সিস্টেম, অটোম্যাটিক ডিস্ক পার্টিশনিং, পরিচিত আর গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসে কাজ করার ক্ষমতা, সবধরনের প্রোগাম বিল্ট ইন পাওয়া এ সমস্ত কারনে লিনাক্স আগের সেই ‘জটিল ধরনের অপারেটিং সিস্টেম’ বিশেষনটি বাদ দিতে পেরেছে। তাই একজন উইন্ডোজ ব্যবহার কারী বা ম্যাক ওএস ব্যবহার কারী খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন লিনাক্স।

কেডিই, জিনোম সহ আরও অন্যান্য কোম্পানী কাজ করে যাচ্ছে লিনাক্সের ডেস্কটপ এনভারমেন্ট নিয়ে। আপনি যদি দেখতে চান কেডিই এনভায়রনমেন্ট দেখতে কেমন তবে trylinuxsd.com ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে বর্তমানের লিনাক্সের চেহারা, তার ডেমো এবং ট্যুর দেখতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে জিনোম ডেস্কটপ (লিনাক্সের একটি ডেস্কটপ এনভারোনমেন্ট) চালালে সেটি দেখতে কেমন হবে তাহলে www.gnome.org/screenshots/ এ গিয়ে স্ক্রিন শটগুলো দেখে মুগ্ধ হতে দ্বিধা করবেন না। আর কেডিই ডেস্কটপ সম্পর্কে জানতে ঢুঁ মারুন www.kde.org এ গিয়ে।

কেন লিনাক্স?
আপনি হয়তো ভাবছেন এতো কিছু থাকতে লিনাক্স কেন? আপনি কি কখনো ভেবেছেন উইন্ডোজে আপনি কতটা নিরাপত্তাহীন? আপনার জরুরী কোন ফাইল খুলে যদি দেখেন কোন এক ’পন্ডিত’ তা ফাঁকা করে রেখেছে তখন কি আপনার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করে না? কিংবা বাইরে বেরুনোর আগে আপনি দীর্ঘস্থায়ী কোন কাজ (হার্ডডিস্ক স্ক্যান, কিংবা কোন ইমেজ রেন্ডারিং) করতে দিলেন এবং চাইলেন আপনার ছোট ভাইটি আপনার কাজ অথবা ডকুমেন্টের কোন ক্ষতি না করে এর পাশাপাশি একটু গেম খেলুক। কখনো কি ভেবেছেন যে এগুলো সম্ভব হতে পারে? এরকম আরো হাজারটা কারন বলা যায় যার জন্য লিনাক্সকে সত্যিই পার্থক্যসূচক সম্মান দিতে হবে। তবে আপনি কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন তা সম্পূর্ণই নির্ভর করে আপনি যে কাজের জন্য আপনার কম্পিউটারকে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন তার উপর। যদি আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার কোন নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া না চলে তাহলে আপনার আর কোন পথ খোলা থাকেনা। কিন্তু যদি সম্ভব হয় তবে সেরা অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করাই যুক্তিসঙ্গত। আমি মনে করি কেন লিনাক্স ব্যবহার করবেন তা আপনার অভিজ্ঞতাই আপনাকে বলে দেবে।
দশটি গুরুত্বপূর্ণ কারন যার জন্য লিনাক্স ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত:

>> লিনাক্সে লক্ষ টাকা মূল্যের সফটওয়্যার পাচ্ছেন বিনামূল্যে (অথবা কয়েকটি সিডির মূল্যে)

>> লিনাক্স একটি পরিপূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম, অর্থাৎ :
- স্টেবল : লিনাক্সের অধীনে কোন সফটওয়্যার হয়ে যাওয়া মানেই লিনাক্স ক্র্যাশ হয়ে যাওয়া নয়
- নির্ভরযোগ্য : একটি লিনাক্স সার্ভারকে কয়েক মাস যাবৎ একনাগাড়ে চলতে দেখা গেছে, যেখানে একটি উইন্ডোজ সিস্টেমকে প্রতিনিয়তই রিবুটের মধ্যে থাকতে হয়।
- অসম্ভব শক্তিশালী সিকিউরিটি ব্যবস্থা : এর ফলে সঠিক ভাবে সেটআপ করা একটি লিনাক্স সিস্টেমকে হ্যাক করা প্রায় দুসাধ্য।

>> পরিপূর্ণ ডেভলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট সহই এটি বাজারজাত হয়। এতে সি, সি++, ফোরট্রান, জাভা ইত্যাদি কম্পাইলারের পাশাপাশি সহজে গ্রাফিক্যাল প্রোগ্রামিং করার টুলকিট যেমন কিউটি, স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন পার্ল, এডাব্লিউকে এবং সেড ইত্যাদি সংযুক্ত থাকে। অপরপক্ষে উইন্ডোজে (আইনগত পদ্ধতিতে) শুধু একটি সি কম্পাইলার যোগাড় করতেই কয়েক হাজার টাকার ধাক্কা।

>> অসাধারন নেটওয়ার্ক সুবিধাদি : খুব সহজেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং সিপিইউ শেয়ার, মোডেম শেয়ার ইত্যাদি করা যায়।

>> অ্যাপাচি ওয়েব সার্ভার সহ এফটিপি সার্ভার এবং অন্যান্য সার্ভার পরিচালনা করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।

>> যদি ফ্রি সফটওয়্যার আপনার চাহিদা পুরনে অপারগ হয়, সেক্ষেত্রে আপনার অর্থ খরচে কর্মাশিয়াল সফটওয়্যার পাবার রাস্তা খোলা আছে।

>> খুব সহজেই লিনাক্স আপগ্রেড করা যায়। উইন্ডোজ আপগ্রেড মানেই বিশাল ঝক্কি। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পুরো হার্ডড্রাইভ ফরমেট করে নতুন করে আপগ্রেড করতে হয়। আর তাই লিনাক্স অনেক সহজে সামলানো যায়।

>> একাধিক প্রসেসর সাপোর্ট বিল্ট ইন।

>> সত্যিকার অর্থে মাল্টিটাস্কিং। আর তাই একই সাথে একাধিক প্রোগ্রাম খুব সুচারুভাবে রান করতে পারে।

>> উইন্ডোজের মতন একটি ডেস্কটপ এনভায়রমেন্ট বিদ্যমান যাকে ‘এক্স উইন্ডো সিস্টেম’ বলা হয়; এটি উইন্ডোজের চেয়ে অনেক সুন্দর এবং কাস্টোমাইজেবল।

>> এর সোর্স ওপেন । যদিও সাধারন ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যপারটির কোন মূল্য নেই। কিন্ত যদি আপনি একজন ডেভলপার হন তাহলে এরকম এক অফুরন্ত সম্ভার দিয়ে আপনি অনেক কিছুই করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া আরো অনেক অনেক কারন উল্লেখ করা যায়, যার বিবরন দিতে গেলে জায়গা সংকুলান হবেনা। এনিয়ে রচিত পুরো একটি বই ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। আগ্রহীরা www.seul.org/docs/whylinux.html এ গিয়ে দেখতে পারেন।
লিনাক্স এর বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশন।

মূল লিনাক্স কারনেলটি লিনাস টোরভাল্ড কর্তৃক তৈরী এবং প্রকাশিত হয়। আর এর পাশাপাশি ছোট বড় নানা প্রতিষ্ঠান পুরো অপারেটিং সিস্টেম দাঁড় করে। এরকম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম এখন পাওয়া যাচ্ছে। উইন্ডোজ বলতে যেমন একমাত্র মাইক্রোসফট উইন্ডোজ বোঝায় , লিনাক্স বলতে কিন্তু কোন নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেম বোঝায়না। আপনার ব্যবহার অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন এরই কোন একটি। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে :-

ক) সহজ
SuSE - একটি ইউজার ফ্রেন্ডলী সহজ জনপ্রিয় জার্মান ডিস্ট্রিবিউশন।
Red Hat - এখনকার সবচে আলোচিত কর্মাশিয়াল ডিস্ট্রিবিউশন ।
Caldera - খুবই ইউজার ফ্রেন্ডলী এবং সহজ ব্যবহার যোগ্য ডিস্ট্রিবিউশন।
Mandrake - ইউজার ফ্রেন্ডলী । ইনস্টলেশন এবং নেভিগেশন খুব সহজ।
TurboLinux - বেশ ইউজার ফ্রেন্ডলী । ততটা জনপ্রিয় নয়।

খ) মোটামুটি সহজ
Slackware - খুব বেশী ইউজার ফ্রেন্ডলী নয়। কিন্তু খুবই স্টেবল এবং সিকিউর। সার্ভার প্রোডাক্ট হিসেবে বেশী ব্যবহার হয়।
Debian - এটির ব্যবহারও সার্ভার লেভেলে বেশ প্রচলিত

গ) অন্যান্য প্লাটফর্মের জন্য
Linux for Macs - এই ডিস্ট্রিবিউশনটি ম্যাক পিসি ইউজারদের টার্গেট করে প্রস্তুত করা ।

উইন্ডোজ এবং লিনাক্স সহাবস্থান
অনেক উইন্ডোজ ব্যবহাকারীর মনে এই ভুল ধারনাটি আছে যে লিনাক্স ইনস্টল করলে উইন্ডোজ বাদ দিয়ে হবে। আসলে লিনাক্স এতোটাই ফ্লেক্সিবল একটি অপারেটিং সিস্টেম যে উইন্ডোজের পাশাপাশি একে রান করা যায়। এমনকি নতুন কোন ডিস্ক পার্টিশন ছাড়াই! কিন্তু ভাল পারফরম্যন্স এর জন্য আলাদা পার্টিশন করে নেয়াটা ভাল।

কুইক লিনাক্স ইনস্টলেশন:
>>
সিস্টেম রিকয়ারমেন্ট : পুরোনো যেকোন ৩৮৬ পিসি থেকে শুরু করে আধুনিক যেকোন কম্পিউটারে লিনাক্স খুব ভাল চলে। তবে ভাল পারফরমেন্স পেতে পেন্টিয়াম ১৬৬ মেগাহার্জ বা তর্দুদ্ধ এবং ৬৪ মেগাবাইট র‌্যাম বা তার বেশী র‌্যাম থাকলে ভাল হয়। কিছু ইন্টারনাল সফট মোডেম, কিছু টিভি কার্ড এবং অল্প কিছু স্ক্যানার ছাড়া বাকি সব হার্ডওয়্যারই ঠিকঠাক মতো চলে। আরও বিস্তারিত জানতে আপনি যে ডিস্ট্রিবিউশনটি ব্যবহার করছেন তার প্রোভাইডারের ওয়েব সাইটে খোঁজ নিন।

>>
শুরুর কয়েকটি স্টেপ:
স্টেপ ১ - ইনস্টলেশনের জন্য বুটেবল সিডি এবং সিডিরম
স্টেপ ২ - http://www.redhat.com/hardware -এ গিয়ে দেখে আসুন আপনার হার্ডওয়্যারগুলো সবগুলো কম্প্যাটিবল কিনা
স্টেপ ৩ - সাহায্য করতে পারে এমন কারো ফোন নাম্বার নিয়ে রাখুন
স্টেপ ৪ - আপনার হার্ডড্রাইভে কমপক্ষে ৯০০ মেগাবাইট জায়গা খালি আছে কিনা দেখে নিন

>>
ডিস্ক পার্টিশনিং
লিনাক্স ইনস্টলেশনের এই ধাপটি সবচেয়ে জটিল। তবে ভয় পাবেন না কিছু মূল ধারনা থাকলেই আপনি এই ধাপটি সম্পন্ন করতে পারবেন। ডিস্ক পার্টিশন বলতে মূলতঃ একটি হার্ডড্রাইভকে কাজে ব্যবহার উপযোগী কতগুলো যুক্তিভিত্তিক অংশে ভাগ করাকে বুঝায়। আপনার হার্ডডিস্কের তথ্য ব্যাকআপ করা থাকলে আপনি ইচ্ছে মতো পার্টিশন করার পদ্ধতি প্রাকটিশ করে দেখতে পারেন। এতে তেমন কোন সমস্যা দেখা দেবার কথা নয়। আর পার্টিশনিং শুধু মাত্র প্রথমবার ইনস্টলেশনের জন্যই দরকার হয়। এরপর যতবারই ইনস্টল করুননা কেন নতুন করে পার্টিশনিং এর প্রয়োজন নেই।

যদি আপনি একটি নতুন হার্ডডিস্কে লিনাক্স ইনস্টল করেন তাহলে তো তেমন কোন সমস্যা নেই। কিন্তু জটিলতা শুরু হয় যখন আপনি একটি মাল্টি ওএস অপারেটিং সিস্টেম রান করতে যাবেন তখনই। সহজে ব্যখ্যা করার জন্য ধরে নিচ্ছি আপনি একজন উইন্ডোজ ইউজার যিনি উইন্ডোজ ৯৫/৯৮ ব্যবহার করছেন। আপনি চাচ্ছেন উইন্ডোজ এর পাশাপাশি আপনি রেড হ্যাট লিনাক্স ব্যবহার করবেন। সবচেয়ে আগে আপনার হাডডিস্কের সমস্ত ডাটা অন্য একটি হার্ডড্রাইভ বা সিডিতে ব্যাকআপ করে নিন।

বর্তমান হার্ডড্রাইভের একটি পার্টিশন ব্যবহার করা: মনে করুন আপনার দুটি লোকাল হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (বা তার বেশী, আমরা সহজে বোঝার জন্য ধরে নিচ্ছি দুটি) আছে। উইন্ডোজে আপনি একে C: বা D: হিসেবে দেখতে পাবেন। এই লোকাল ড্রাইভ দুটো হতে পারে আপনার একটি হার্ড ডিস্কের দুটো পার্টিশন অথবা দুটো হার্ড ডিস্কের দুটো পার্টিশন। যাই হোক আপনি D: ড্রাইভে লিনাক্স ইনস্টল করতে পারেন।

প্রয়োজনীয় স্টেপ:
ক. আপনি যে ড্রাইভটি অর্থাৎ এখানের উদাহরন অনুযায়ী D: ড্রাইভের সমস্ত ফাইল ব্যাকআপ করুন।

খ. ইনস্টলেশন প্রোগাম শুরু করুন এবং লিনাক্স ইনস্টলেশন প্রোগ্রামে ক বলে দিন এই ড্রাইভটিতে লিনাক্স ইনস্টল করতে। প্রসংঙ্গত উল্লেখ্য, লিনাক্স ডিস্ক আর পার্টিশ কে আলাদা ভাবে রিকগনাইজ করে। অর্থাৎ যদিও আপনি উইন্ডোজে D: ড্রাইভ হিসেবে যা দেখতে পাবেন সেটা একটি ডিস্কের দুটি পার্টিশন হতে পারে অথবা দুটি ডিস্কের দুটো পাটিশন হতে পারে। লিনাক্স এদের আলাদা ভাবে সনাক্ত করে :

প্রথমত, যদি উইন্ডোজের C: এবং D: দুটি ড্রাইভ আলাদা ডিস্ক হয় এবং ড্রাইভ টি প্রাইমারী মাস্টার, প্রাইমারী স্লেভ, সেকেন্ডারী মাস্টার কিংবা সেকেন্ডারী স্লেভ পোর্টে লাগানো থাকে লিনাক্সে একে যথাক্রমে hda, hdb, hdc অথবা hdd ইত্যাদি হিসেবে ডিটেক্ট করবে। আর যদি স্ক্যাজি ড্রাইভ হয় তাহলে sda অথবা sdb ইত্যাদি হিসেবে ডিটেক্ট করবে। ইনস্টলেশনের সময় জাস্ট কারেক্ট ডাইভটি সিলেক্ট করুন, ব্যাস ওকে।

দ্বিতীয়ত, যদি উইন্ডোজের C: এবং D: দুটি ড্রাইভ একই হার্ডডিস্কের দুটি পার্টিশন হয় ইনস্টলেশন প্রোগ্রাম একে hda1 বা hda2 হিসেবে (স্ক্যাজি ড্রাইভের ক্ষেত্রে sda1 বা sda2 হিসেবে) সনাক্ত করবে। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো ইনস্টলেশনের সময় এই শেষ পার্টিশন অর্থাৎ hda1 বা sda1 ডিলিট করে ফেলতে হবে। তারপর এই বেঁচে যাওয়া স্পেস কে আবার লিনাক্স এর জন্য পার্টিশন করতে হবে। আর হ্যাঁ, ইনস্টলেশনের আগেই পার্টিশন ডিলিট বা ক্রিয়েট করার কোন প্রয়োজন নেই।

বর্তমান পার্টিশন ভেঙ্গে আরেকটি নতুন পার্টিশন তৈরী:
মনে করুন উইন্ডোজে আপনি একটি ড্রাইভই দেখতে পান, শুধু C: ড্রাইভ, এছাড়া আপনার আর কোন ডিস্ক ড্রাইভ তো নেইই উপরন্তু আপনি আরেকটি নতুন হার্ডডিস্ক কিনতে আগ্রহী নন। এক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে তা হচ্ছে আপনার এই পার্টিশনকে ভেঙ্গে দুটো টুকরো করে নিতে হবে - কিন্তু শর্ত হচ্ছে যে আপনার C: ড্রাইভটি তে যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। এতে আপনি পাবেন একটি আগের চেয়ে ছোট একটি C: ড্রাইভ পাবেন এবং কিছু অপার্টিশন কৃত খালি জায়গা পাবেন। লিনাক্স ইনস্টলেশনের সময় এই খালি জায়গা ব্যবহার করে ইনস্টলেশন সম্পন্ন করতে হবে। এই পার্টিশন ভাঙ্গার কাজটি আপনি fdisk (লিনাক্স ভার্সন, উইন্ডোজ ভার্সনেও কাজ চলতে পারে কোন কোন ক্ষেত্রে) ব্যবহার করে করতে পারেন। তবে এতে আপনাকে উইন্ডোজ নতুন করে ইনস্টল করতে হবে।
অনেক ক্ষেত্রে আপনি আপনার উইন্ডোজ রিমুভ করতে নাও চাইতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি থার্ড পার্টি কোন এপ্লিকেশনের সাহায্য নিতে পারেন। এদের মধ্যে একটি হলো fips । এটি রেড হ্যাট লিনাক্স ইনস্টলেশন সিডির মধ্যেই পাওয়া যাবে। সিডিটির dosutils ফোল্ডারে ব্রাউজ করে প্রোগ্রমটি ব্যবহারের আগে এর হেল্প এবং readme পড়ে নিতে ভুলবেননা যেন।
এছাড়া আরেকটি ভাল প্রোগ্রাম হচ্ছে উইন্ডোজের পার্টিশন ম্যাজিক। যদি কোন ভাবে এই প্রোগ্রামটির একটি কপি জোগাড় করতে পারেন তবে পার্টিশনের কাজটি আরামে করতে পারেন।

পার্টিশন ম্যাজিক : সত্যিই জাদু
পাওয়ার কোয়েস্টের এই প্রোগ্রামটি সত্যিই অদ্ভুত। এর ভার্সন ৫.০ বা তর্দূদ্ধ থাকলে উপরের পার্টিশনিং এর কাজ গুলো অতি সহজে করতে পারবেন। আগের টপিক অনুযায়ী আপনার নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে যে আপনি পার্টিশনিং এর কোন পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে যাচ্ছেন। এর উপর নির্ভর করে আপনি পার্টিশন ম্যাজিক সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে create new partition wizard কিংবা রিসাইজিং ব্যবহার করে আপনি সারতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় পার্টিশনিংটি। একটি নতুন পার্টিশন করতে পার্টিশন ম্যাজিক এর মেইন স্ক্রিনে wizards মেনুর Create New Partition... ক্লিক করুন। তারপর wizard এর স্ক্রিনে next ক্লিক করুন। আপনার যদি একাধিক ডিস্ক থাকে তবে পরের স্ক্রিনে কাঙ্খিত ড্রাইভটি সিলেক্ট করে next ক্লিক করুন। এর পরের স্ক্রিনে আপনাকে জিজ্ঞেস করা হবে আপনি কি একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করতে চান কিনা? ইয়েস সিলেক্ট করে next ক্লিক করুন। এর পরের স্ক্রিনে সার্পোটেড অপারেটিং সিস্টেমের লিস্ট দেখতে পাবেন। লিনাক্স সিলেক্ট করে next ক্লিক করুন। এরপরের স্ক্রিনে ফাইল সিস্টেম টাইপ দেখতে পাবেন। যেহেতু লিনাক্স কার্নেল ২.৪ এর আগ পর্যন্ত একটি মাত্র ফাইল সিস্টেম linux ext2 ছিল তাই এটি সিলেক্ট করে next ক্লিক করুন। এরপর logical (বা primary যেটি প্রযোজ্য) সিলেক্ট করে next ক্লিক করুন। এরপর স্পেসিফাই লোকেশন এ after D: (বা before D: ,যেটি প্রযোজ্য) সিলেক্ট করে next ক্লিক করুন। এরপর সাইজ স্পেসিফাই করে next ক্লিক করুন। তারপরের স্ক্রিনে finish ক্লিক করুন। তবে সবচেয়ে আগে আপনি আপনার সমস্ত ডাটা ব্যাকআপ করে নিতে ভুলবেননা যেন। আর যাই কিছু করুন পার্টিশন ম্যাজিক এর হেল্প ভাল করে পড়ে নিবেন। এবং অনলাইন রেফারেন্স ঘেঁটে দেখতেও ভুলবেননা যেন।

>> রেডহ্যাট লিনাক্স ইনস্টল করা
সিডি থেকে বুট করার পর এন্টার প্রেস করলে সব কিছু গ্রাফিক্যালি শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন স্ক্রিনে ল্যাংগুয়েজ সিলেকশন, কির্বোড এবং মাউস কনফিগারেশন করতে সঠিক ডিভাইসটি সিলেক্ট করে নেকস্ট ক্লিক করুন। ইনস্টল অপশন হিসেবে ওয়ার্ক স্টেশন সিলেক্ট করুন। এরপর আসবে পার্টিশনিং এর পালা। লিনাক্স ইনস্টলেশন সিস্টেমে বর্তমানে অটোম্যাটিক পার্টিশনিং সাপোর্ট দেয়া হয়। যদি আপনার C, D, E তিনটি ড্রাইভ থাকে আর উইন্ডোজের এফডিস্ক ব্যবহার করে শেষের ড্রাইভটি ডিলিট করে থাকেন তাহলে এই অপশনটি দেখতে পাবেন। এছাড়া অন্যান্য ভাবে কাজটি করা গেলেও তার ব্যাখ্যা বর্তমান লেখার আওতা বর্হিভুত। অটোম্যাটিক পার্টিশনের সাহয্যে কোন মাথাব্যথা ছাড়াই আপনি ইনস্টল সম্পন্ন করতে পারেন। যদি আপনি পার্টিশনিং এ সচ্ছন্দ বোধ না করে থাকেন তাহলে ব্যাপারটি ইনস্টলেশন প্রোগ্রামের উপর ছেড়ে দিতে পারেন। এই স্ক্রিনে, আপনি অটোম্যাটিক পার্টিশনিং বাছাই করতে পারেন, 'ডিস্ক ডিউরিড' (Disk Druid : একটি গ্রাফিক্যাল ডিস্ক পার্টিশনিং প্রোগ্রাম) ব্যবহার করতে চাইতে পারেন কিংবা 'এফডিস্ক' (fdisk : একটি কনসোল বেইজড ডিস্ক পার্টিশনিং প্রোগ্রাম) ব্যবহার করতে চাইতে পারেন। সেক্ষেত্রে এটির ব্যবহার আপনাকে জানতে হবে।
এরপরের স্ক্রিন গুলোতে জাস্ট নেকস্ট ক্লিক করলেই ডিফল্ট অপশনগুলো সিলেক্টেড হয়ে যাবে। কেবল রুট ইউজার হিসেবে কোন পাসওর্য়াড ব্যবহার করেছেন সেটি মনে রাখবেন, নচেৎ আপনার সিস্টেমে আপনিই প্রবেশ করতে পারবেন না। ভিডিও কার্ড কনফিগারেশনের ক্ষেত্রে ডিফল্ট হিসেবে আপনার কার্ডটি পেয়ে যাবার কথা। নইলে যথাযোগ্য হার্ডওয়্যারটি সিলেক্ট করে দিন। সর্বশেষে ফাইল কপি হতে দেখবেন। অতঃপর একটি রিবুট শেষে আপনি আপনার নতুন সিস্টেম ব্যবহার শুরু করতে পারবেন। প্রথমবার লগইন করতে ইউজার নেম 'root' এবং ইনস্টলেশনের সময় ব্যবহার কৃত পাসওয়ার্ডটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে পরবর্তীতে সাধারন কাজের জন্য রুট একাউন্ট ব্যবহার না করাই ভাল।

লিনাক্স ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট:
উইন্ডোজে আপনার একমাত্র একটি ডেস্কটপ। তাই তার ধরন ধারন কিছুদিন পরেই একঘেয়ে লাগতে শুরু করে। যদিও গুটিকয়েক থিম ব্যবহার করে যদিও এর খোলশ পাল্টে দেয়া যায় - তবুও তার উইন্ডোয়িং সিস্টেম এবং অন্যান্য জিনিসপত্তরতো সেই একই। লিনাক্স এই দিক দিয়ে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র| লিনাক্সে রয়েছে বিবিধ ডেস্কটপের এক অভুতপূর্ব সমাহার। আর প্রত্যেকটি ডেস্কটপ একটি আরেকটির চেয়ে ভিন্ন এবং মাধুর্য্যপূর্ণ। প্রতিটি ডেস্কটপেই রয়েছে আবার বহু ধরনের ভিন্ন ভিন্ন থিম। ডেস্কটপের এই ব্যপারটিকে তুলনা করা যায় একই কম্পিউটারে ব্যবহৃত ভিন্ন ভিন্ন মনিটরের সাথে। ইচ্ছে হলো তো ব্যবহার করলাম নরমাল, ফ্ল্যাট কিংবা এলসিডি মনিটর - তেমনি ইচ্ছে হলো তো ব্যবহার করলাম কেডিই, জিনোম কিংবা অন্য যেকোন ডেস্কটপ।

কেডিই ডেস্কটপ:
লিনাক্সে যেসমস্ত ডেস্কটপগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে সবচেয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলী আর জনপ্রিয় হচ্ছে এই ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টটি। তাই আমার আলোচনা মূলতঃ এটিতেই সীমাবদ্ধ রাখব। আপনার ডেস্কটপে যেসমস্ত আইকন দেখতে পাবেন তার মধ্যে রয়েছে ট্র্যাশ ক্যান (অনেকটা রিসাইকেল বিনের মতো), কনট্রোল প্যানেল সহ আরো কয়েকটি আইকন। এদের যেকোন একটায় ক্লিক করে আপনি সেই আইটেমে ঢুকে যেতে পারবেন। এছাড়া স্টার্টআপে যদি কোন প্রোগ্রাম রান করতে চান তাহলে প্রোগ্রামটি ড্র্যাগ করে এনে Autostart লেখা আইকনটির উপর ছেড়ে দিন। এছাড়া লিনাক্সের মোটামুটি সবগুলো ডিস্টিবিউশনের শেষ দিকের ভার্সনগুলোতে অটোম্যাটিক্যালি সিডি ডিটেক্ট করার ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান ডেস্কটপটিতে একটি সিডি আইকন দেখতে পাওয়া যায় এতে ক্লিক করলেই সিডির ভেতরের মালমশলা দেখতে পাওয়া যায়।


প্যানেল:
উইন্ডোজের টাস্কবার (যেখানটায় র্স্টাট বাটন থাকে) এর মতো লিনাক্সে একটি প্যানেল যেটি ডেস্কটপের নীচে টানা ভাবে সজ্জিত থাকে।
এই বারের ÔKÕ লেখা যেখানটা দেখতে পাচ্ছেন সেখানটায় ক্লিক করলে একটি মেনু দেখতে পাবেন যাকে ÔKÕ মেনু বলা হয়। এখানটায় আপনি অধিকাংশ প্রোগ্রামের শর্টকাট দেখতে পাবেন।

লীনাক্স ডিরেক্টরী স্ট্রাকচার:
আপনি কমান্ড প্রম্পটে বা ফাইল ম্যানেজার ব্যাবহার করে লিনাক্স পার্টিশনে রাখা যে সমস্ত ফোল্ডার দেখতে পাবেন সেগুলোর কয়েকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। রেডহ্যাট এবং অন্যান্য ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ফাইল সিস্টেমের জন্য একটি স্ট্যার্ন্ডাড মেনে চলে, যাকে ফাইল সিস্টেম হাইরারচি স্ট্যান্ডার্ড সংক্ষেপে FHS বলা হয়ে থাকে। এই স্ট্যার্ন্ডাডটির পুরো ডকুমেন্টটা পাওয়া যাবে http://www.pathname.com/fhs - তে। এখানে যে সমস্ত ডিরেক্টরীর উল্লেখ করা হবে তা মূল স্ট্যান্ডার্ড এবং একাধিক অন্যান্য ডিরেক্টরীর একটি অংশ।
/dev ডিরেক্টরী : আপনার সিস্টেমে সংযুক্ত বিভিন্ন ডিভাইস যেমন হার্ডড্রাইভ, সিডিরম, ভিজিএ কার্ড ইত্যাদিকে উপস্থাপন করে। যেমন : /dev/cdrom - সিডিরম ড্রাইভ, /dev/modem - মোডেম, /dev/hda - প্রাইমারী মাস্টার হার্ডড্রাইভ ইত্যাদি নির্দেশ করে। সিস্টেম ঠিকঠাক ভাবে কাজ করতে হলে এই ডিরেক্টরীটির উপস্থিতি জরুরী।
/etc ডিরেক্টরী : এই ডিরেক্টরী আসলে বিভিন্ন ধরনের কনফিগারেশন ফাইলের একটি ধারক। বিভিন্ন প্রোগ্রাম তাদের বিভিন্ন ধরনের কনফিগারেশন এখানটায় রেখে থাকে এবং প্রয়োজনমতো ব্যবহার করে থাকে। বিভিন্ন ধরনের কনফিগারেশন সরাসরি বদলাতে চাইলে আমরা এখানটায় সেটি সম্পন্ন করতে পারি। এটাকে অনেকটা উইন্ডোজের রেজিস্ট্রির মতো বলা যায়। এই ডিরেক্টরীরর ভেতর বেশীরভাগ সময় আরো দুটো ডিরেক্টরী দেখতে পাওয়া যায় - /etc/X11 এবং /etc/skel| প্রথমটি ব্যবহৃত হয় এক্স ইউন্ডো সিস্টেম ম্যানেজার প্রোগ্রাম কর্তৃক এবং পরেরটি ব্যবহৃত হয় কোন নতুন ইউজার তৈরী করলে তার ডেস্কটপসহ অন্যান্য প্রাথমিক তথ্যাদির ধারক হিসেবে।

/lib ডিরেক্টরী : এখানটায় সিস্টেমের লাইব্রেরী ফাইল সমূহ থাকে। বিভিন্ন প্রোগ্রাম এই লাইব্রেরী ফাইলগুলো ব্যবহার করতে পারে। অনেকটা উইন্ডোজের ডিএলএল ফাইলের মতো। সিস্টেমের বহু প্রয়োজনীয় ডিএলএল ফাইল এখানটায় থাকে।

/mnt ডিরেক্টরী : অস্থায়ী স্টোরেজ ডিভাইস যেমন ফ্লপি, সিডিরম ইত্যাদি এখানে মাউন্ট করা হয়। বেশীরভাগ সিস্টেমে এই ফোল্ডারের ভিতরে থাকে আরো কিছু সাবডাইরেক্টরী যেমন /floppy, /cdrom, /zip যা আপনার রিমুভেবল মিডিয়া ড্রাইভ নির্দেশ করে থাকে। যখন আপনি ফ্লপি ব্যবহারের আগে তা মাউন্ট করবেন তার ফাইলগুলো তখন /mnt/floppy তে জমা হবে কেননা লিনাক্সে কোন ড্রাইভ লেটার নেই যেমন A: ইত্যাদি।

/opt ডিরেক্টরী : এই ডিরেক্টরী বিভিন্ন বড়সড় প্যাকেজ সফটওয়্যারের জন্য যায়গা দিয়ে থাকে। বিভিন্ন বড় সফটওয়্যার যেগুলোর নিজেদের বিভিন্ন ধরনের সাব ফোল্ডার থাকে এবং নিজস্ব ডিরেক্টরী স্ট্রাকচার থাকে সেগুলো সাধারনত এখানটায় ইনস্টল করা হয়।

/proc ডিরেক্টরী : যে সমস্ত ফাইল সরাসরি কারনেল থেকে ইনফরমেশন নেয় কিংবা দেয় তাদের অবস্থান এই ডিরেক্টরীতে। অর্থাৎ এই ডিরেক্টরীতে অবস্থানরত ফাইল গুলোতে সিস্টেমের বিভিন্ন রকম ইনফরমেশন জমা হতে থাকে।

/sbin ডিরেক্টরী : শুধুমাত্র 'root' ইউজার কর্তৃক ব্যবহার যোগ্য প্রোগ্রাম এখানটায় পাওয়া যাবে। এখানে পাওয়া প্রোগ্রামগুলো শুধুমাত্র বুট করতে, '/usr' ডিরেক্টরী মাউন্ট করতে এবং সিস্টেম রিকভারী অপারেশনে ব্যবহৃত হয়।

/usr ডিরেক্টরী : এখানটায় আসলে বেশীরভাগ ফাইল অবস্থান করে । আর এ কারনে এটিকে সম্পূর্ন আলাদা একটি পার্টিশনে জায়গা দেয়াটা খুবই যুক্তি সংগত। উপরন্তু এটিকে রিডওনলি হিসেবে মাউন্ট করা উচিত। এর ভেতরে যেসমস্ত সাবডিরেক্টরী সাধারনতঃ দেখতে পাওয়া যায় -

/usr
|- bin বিভিন্ন প্রোগ্রামের ধারক
|- doc ডকুমেন্ট পেইজ ধারক
|- etc আরো কিছু কনফিগারেশন ফাইল এখানে থাকে
|- games গেমসের জন্য
|- include সি প্রোগ্রামিং এর হেডার ফাইল ধারক
|- kerberos kerberos সংক্রান্ত কিছু বিশেষ প্রোগ্রাম
|- lib সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয় এমন কিছু লাইব্রেরী ফাইল থাকে
|- libexec অন্য প্রোগ্রাম কর্তৃক ব্যবহৃত কিছু সাহায্যকারী প্রোগাম থাকে
|- local পরে আলোচনা করা হয়েছে
|- sbin সিস্টেম সংক্রান্ত কিছু প্রোগামের ধারক
|- share এমন কিছু ফাইল যার ফাইল আর্কিটেকচার নিদিষ্ট নয়
|- src হচ্ছে সোর্স কোড ধারক
|- X11R6 এক্স ইউন্ডো সিস্টেম সংক্রান্ত কিছু প্রোগ্রাম ধারক

/usr/local ডিরেক্টরী : সিস্টেম এডমিন কর্তৃক ইনস্টলকৃত ছোট এবং মাঝারী আকারের সফটওয়্যার এর মধ্যে থাকতে পারে। এর অর্ন্তবর্তী সাবডিরেক্টরী অনেকটা /usr এর মতো।

/var ডিরেক্টরী : যেহেতু সিকিওরিটির কারনে অন্যান্য ফোল্ডার লক করা কিংবা রিডওনলী থাকতে পারে তাই বিভিন্ন প্রোগ্রামের ব্যবহৃত লগ ফাইল বা পরিবর্তনশীল ফাইল এবং ফোল্ডার রাখতে এই ফোল্ডারটি ব্যবহৃত হয়। তদুপরি এটি সম্পূর্ণ রিডরাইট অধিকার সম্পন্ন থাকতে হবে।

লিনাক্সের বিভিন্ন প্রোগ্রাম সমূহ:
একজন সাধারন ইউজার থেকে শুরু করে সার্ভার ইউজার সবার জন্য প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত সফটওয়্যারের অভাব নেই লিনাক্সে। আর লিনাক্সে উইন্ডোজ এমালিউএটর সফটওয়্যার যেমন ওয়াইন ইত্যাদি আছে বলে উইন্ডোজে চলে এমন বেশীরভাগ সফটওয়্যারই লিনাক্সে রান করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে উইন্ডোজের বেশীরভাগ গেম, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ২০০০ ইত্যাদি।

এ্যাপ্লিকেশন ধরনউইন্ডোজ এ্যাপ্লিকেশনলিনাক্স এ্যাপ্লিকেশন
অফিস প্যাকেজ মাইক্রোসফট অফিস এক্সপি ওয়ার্ড পারফেক্ট ল্যাটেক্স সিস্টেম, স্টার অফিস ৫.২ কোরেল ওয়ার্ড পারফেক্ট এ্যাপ্লিক্সওয়্যার
এমপিথ্রি প্লেয়ারউইনঅ্যাম্প, মিউসিকম্যাচ জুকবক্সএক্সএমএমএস, কেজুকবক্স
পিকচার ভিউয়ারএসিডি সি ই আইজ, কেভিউয়ার
ইন্টারনেট ব্রাউজারএমএস ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, নেটস্কেপ নেভিজেটর, মোজিল্লানেটস্কেপ নেভিজেটর, কনকয়্যার, মোজিলা
ইমেইল অ্যাপ্লিকেশনআউটলুক এক্সপ্রেস, এউডোরা, নেটস্কেপ ম্যাসেনজারকেমেইল, জিএনইউ মেইলার
স্প্রেডসিট প্রোগ্রামমাইক্রোসফট এক্সেল, স্টার ক্যাল্কস্টার ক্যাল্ক, জিনুমেরিক
প্রেসেনটেশন প্রোগ্রামমাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট, স্টারলেমপ্রেসস্টারলেমপ্রেস, কেপ্রেজেন্ট
র‌্যাপিড অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপমেন্টভিস্যুয়াল স্টুডিও, ডেলফিগ্লেড, কাইলিক্স
ইমেজ এডিটিং / ম্যানিপুলেশনএডবি ফটোশপজিম্প
ইলাস্ট্রেটর / ভেক্টর গ্রাফিক্সএডবি ইলাস্ট্রেটর, কোরেল ড্র কে ইলাস্ট্রেটর, স্কেচ
ডাটাবেসওরাকল, মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভারওরাকল, মাইএসকিউএল, পোস্ট জিআরই এসকিউএল
প্রক্সি সারভারউইনগেট, নেভিস্কোপস্কুইড, এসওসিকেএসডি
টেক্সট এডিটরনোটপ্যাড, টেক্সটপ্যাডইম্যাকস, ভি, জিএডিট
সি/সি++ কম্পাইলারটারবো সি++, ভিজুয়াল সি++জিএনইউ সি/সি++
ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামমাইক্রোসফট ভিজুয়াল সি++কে ডেভলপার
অন্যান্য কম্পাইলারকিউ বেসিক, ফোরট্রান, জেডিকেজিএনইউ বেসিক, জি৭৭, জেডিকে
সিডি রেকডির্ংনিরো বার্নিং রম, এডাপটেক ইজি সিডিএক্স-সিডিরোস্ট, জিনোম টোস্টার
ইন্সট্যান্স মেসেজিংআইসিকিউ, ইয়াহু মেসেঞ্জার, এমএসএন মেসেঞ্জারএভরিবাডি, এলআইসিকিউ
ভিডিও প্লেয়ারজিং এমপেগ প্লেয়ার, সুপার ডিকোডার, উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ারজাইন, এমপিইজিপিভি প্লেয়ার


বাংলাদেশে লিনাক্স
লিনাক্সের প্রান হলো এর ইউজার গ্রুপ। লিনাক্স ওপেন সোর্স আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে যার মূল বক্তব্যই হল : একার নয় সবার। তাই লিনাক্স ব্যবহারকারীর জন্য ইউজার গ্রুপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে বর্তমানে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ইউজার গ্রুপ রয়েছে। তন্মধ্যে বিডিলাগ (বাংলাদেশ লিনাক্স ইউজার গ্রুপ) এবং বুয়েটলাগ (বুয়েট লিনাক্স ইউজার গ্রুপ) উল্লেখযোগ্য। বিডিলাগ বাংলাদেশের প্রাচীনতম লিনাক্স ইউজার গ্রুপ যার পুরোধা মুজাহেদুল হক আবুল হাসনাত। অতীতে এর বেশ কয়েকটি আলোচনা সভা হলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম একটি মেইলিং লিস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর মেইলিং লিস্টের অ্যাড্রেস হল : bdlug@yahoogroups.com এবং ওয়েব সাইট www.bdlug.org|

শেষ কথা :
লিনাক্স একটি আন্দোলন, লিনাক্স একটি ভালোবাসা, লিনাক্স একটি শক্তি। লিনাক্স নিজেই একটি নতুন শতাব্দী, একটি কিংবা দুটি কাভার স্টোরীতে এর উপাখ্যান শেষ হবার নয়। শেষ হবার নয় এর অফুরন্ত বিস্ময়। যে হাতছানিতে সার বিশ্ব সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসছে, আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন? লিনাক্সের কাব্যময় জগতে আমন্ত্রন জানিয়ে শেষ করছি...

ওয়েব লিঙ্ক:
জিএনইউ ওয়েবসাইট : www.gnu.org
ফাড সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর : www.geocities.com/SiliconValley/Hills/9267/fud2.html
কার্ণেল সংক্রান্ত ওয়েবসাইট : www.kernel.org
অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের সাথে লিনাক্সের একটি পরিসংখ্যান : www.dwheeler.com/oss_fs_why.html
লিনাক্স সংক্রান্ত বিভিন্ন নিউজ এবং তথ্যাদি : www.linux.org
ওপেন সোর্সের একটি ওয়েব সাইট : www.opensource.org
ব্যবসায়িক পরিপ্রেক্ষিতে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার : www.opensource.org/advocacy/case_for_business.html

প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত:
লিনাক্স সফটওয়্যার ডেভলপারদের জন্য তথ্যের উৎস এবং পোর্টাল : linuxdev.net
লিনাক্স প্রোগ্রামারদের স্বর্গরাজ্য : www.linuxprogramming.com
ওপেন সোর্স ওয়েব ডেভলপমেন্ট সোর্স : www.opendeveloper.org
সোর্স কোড কালেকশন : www.sourcebank.com
আরেকটি সোর্স কোড এবং সফটওয়্যার কালেকশন : www.sourceforge.net

রেফারেন্স
লিনাক্স ডকুমেন্টেশন প্রোজেক্ট : www.linuxdoc.org
লিনাক্স ফ্রিকুয়েন্টলী আস্কড কোয়েশচান : www.firstlinux.com/guide
লিনাক্স গুরুজ : www.linuxguruz.org
লিনাক্সের সমস্যা সমাধানের টেকনিক্যাল বিভিন্ন তথ্যাবলী : www.linuxkb.cheek.com

বই:
কিছু ওপেন সোর্স বই : www.tuxedo.org/~esr/writings
ফায়ারওয়্যালের উপর একটি বই : www.quanmongmo.net
অনেকগুলো লিনাক্স সংক্রান্ত বই : www.opencontent.org/openpub
লিনাক্স শেখার জন্য বেশ ভাল : www.linuxfromscratch.org
লিনাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একটি ভাল বই : www.securityportal.com/lasg
লিনাক্স ইনস্টলেশন এন্ড গেটিং স্টার্টেড www.ssc.com

ডাউনলোড লিঙ্ক
appwatch.com/Linux
www.caleb15.com
davecentral.com
www.freshmeat.net
www.linuxapps.com
www.penguinapps.com
www.themes.org
www.tuxfinder.com

ফোরাম
লিনাক্স কমিউনিটির জন্য ফোরাম একটি গুরুত্বপূর্ণ কনসেপ্ট কারন লিনাক্স প্রেমিরা পরস্পর পরস্পরের প্রতি বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দারুন সহমর্মী।
www.linuxplanet.com
www.lnuxquestions.org

হার্ডওয়্যার :
www.linuxppc.org
www.linuxprinting.org

হেল্প ও ট্রাবলশ্যুটিং :
www.linuxhelp.net
www.linuxhelp.org
www.linuxselfhelp.com

সফটওয়্যারের স্বাধীনতাযোদ্ধা রিচার্ড স্টলম্যান


| প্রিন্ট |
লিখেছেন বিপ্র রঞ্জন ধর
Saturday, 21 June 2008

স্বাধীনতার আকাঙ্খা প্রতিটি মানুষের মাঝেই আছে। মানবসভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করে আসছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বেও এখন বিচিত্র এক যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ সফটওয়্যারের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। বিচিত্র এই যুদ্ধের মহানায়কের নাম রিচার্ড ম্যাথু স্টলম্যান। লোভী সফটওয়্যার ব্যবসায়ীদের কালো থাবার মুখে তিনিই বিশ্ববাসীকে উচ্চারণ করতে শিখিয়েছিলেন এক সাহসী শ্লোগাণ-সফটওয়্যারের স্বাধীনতা চাই!

১৯৫৩ সালের ১৬ মার্চ নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্ম নেয়া এই রিচার্ড স্টলম্যান প্রথম প্রোগ্রামটি লিখেন হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশনের কিছুদিন পরে। তখন তিনি রকফেলার ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান বিভাগের গবেষনাগারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। তবে ইতোমধ্যে তার ক্যারিয়ার গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানের পথেই এগিয়ে গেছে, যদিও তার তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকরা মনে করতেন তিনি হয়তো জীববিজ্ঞানেই উচ্চশিক্ষা গ্রহন করবেন।

১৯৭১ সালের জুন মাসে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষনাগার একজন প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করার সুযোগ লাভ করেন। একজন হ্যাকার হিসেবেও তার হাতে খড়ি হয় সেখানেই। হ্যাকিংয়ের কথা শুনে মোটেও চমকে উঠবেন না যেন। তখনকার দিনে হ্যাকিংয়ের সংজ্ঞা ছিল একেবারেই অন্যরকম। তখন কম্পিউটার এবং এর নিরাপত্তা সম্পর্কে যারা খুব দক্ষ ছিলেন তাদেরকে হ্যাকার বলা হতো। হ্যাকিংয়ের যাত্রা শুরু এমএইটি’র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষনাগারেই। স্টলম্যান ‘RMS’ নামে খুব অল্প দিনের মাঝে এমআইটি’র হ্যাকার সমাজে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। উল্লেখ্য, ‘RMS’ তার পুরো নাম রিচার্ড ম্যাথু স্টলম্যানের সংক্ষিপ্ত রূপ। হ্যাকার হিসেবে তার বেশ কিছু আলোচিত ঘটনাও আছে। ১৯৭৭ সালে এমএইটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে প্রত্যেক ছাত্রদের কম্পিউটারে লগইন করার জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড দেয়া হয়। যথারীতি স্টলম্যানের এই পাসওয়ার্ডের শৃঙ্খল মোটেও পছন্দ হলো না। তিনি পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে সবার পাসওয়ার্ড তুলে দিয়ে সবাইকে ই-মেইলে জানিয়ে দিলেন। এরই মাঝে স্টলম্যান এমআইটি-তে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শুরু করেছেন।

আশির দশকের শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে কপিরাইটের বাড়াবাড়ি শুরু হয়। এর ফলে অনেক দাম দিয়ে সফটওয়্যার কিনেও ক্রেতারা তা স্বাধীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করেন। শুধু তাই নয় ব্যবসায়ীরা সফটওয়্যার কপি করা বা না কিনে বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোকে ‘চুরি’র মতো নোংরা কাজের সাথে তুলনা করতে শুরু করে। এর মাঝে এমআইটি’র গবেষনাগারেও একটি ঘটনা ঘটে। ১৯৮০ সাল। একদিন স্টলম্যান ৫০ পাতার একটি জরুরী ফাইল প্রিন্ট করতে দিয়েছেন। লেজার প্রিন্টারটি অন্য তলায়। স্টলম্যান গিয়ে দেখেন প্রিন্টারের ট্রে-তে মাত্র চারটি পাতা পড়ে আছে, তাও অন্য আরেকজনের। তার ফাইলের একটা পাতাও প্রিন্ট হয়নি। জ়েরক্স ৯৭০০ মডেলের এই প্রিন্টারটি এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে পাওয়া। স্টলম্যান এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রিন্টার সফটওয়্যারের সোর্স কোডে কিছু পরিবর্তন করলেন যেন প্রিন্টারে ফাইল প্রিন্ট হয়ে গেলে বা প্রিন্টার ব্যস্ত থাকলে ল্যাবের কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা তাৎক্ষনিক বার্তা আকারে দেখায়। এমআইটি’র ল্যাব স্টলম্যানের রূপান্তর করা এই সফটওয়্যারটি প্রত্যাখান করে, কারন এটি অন্য একটি সফটওয়্যারকে রূপান্তর করে তৈরি করা। এই ঘটনাটি সফটওয়্যারের ভবিষ্যত স্বাধীনতাযোদ্ধা স্টলম্যানের উপর বেশ বড়সর প্রভাব ফেলে।

এরই মাঝে এমএইটি’র হ্যাকার সমাজেও ভাঙ্গন ধরেছে। এমএইটির হ্যাকার সমাজের শেষ সদস্য হিসেবে তিনি নন-ডিসক্লোসার এগিমেন্ট স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। এই চুক্তির শর্ত ছিল নিজের ডেভোলপকৃত সফটওয়্যারের সোর্স কোড কাউকে দেয়া যাবে না। রিচার্ড স্টলম্যান এই চুক্তিকে ‘অনৈতিক’ এবং ‘অসামাজিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একটি নিশ্চিত জীবনযাপনের হাতছানিকে দূরে ঠেলে ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে এমআইটি’র প্রোগ্রামারের চাকুরি ছেড়ে দেন। মুক্ত সফটওয়্যার তৈরির লক্ষ্যে পুরোটা সময় গনুহ (GNU) প্রকল্পে ব্যয় করা। গনুহ প্রকল্পের ঘোষনা অবশ্য আগের বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই দিয়েছিলেন। সফটওয়্যারের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর গল্প মোটামুটি এই। কিন্তু শুধু যুদ্ধ শুরু করলে তো হবে না, চাই অস্ত্র, চাই মানুষ…। স্টলম্যান বুঝতে পারছিলেন মানুষের হাতে শুধু উন্মুক্ত সফটওয়্যার তুলে দিলেই হবে না, সেই সফটওয়্যারগুলো চালানোর জন্য একটি উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেমও তো চাই।

১৯৮৫ সাল। মার্চ মাসে প্রকাশিত হয় গনুহ প্রকল্পের ইশতেহার । এই ইশতেহারে গনুহ প্রকল্পের বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার পাশপাশি জানানো হয় ইউনিক্স ভিত্তিক একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কথা। ইউনিক্সের মতো হলেও এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে একদম বিনে পয়সায়। এছাড়াও মুক্ত সফটওয়্যারের আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে সে বছরের ৪ অক্টোবর গঠন করেন ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। মুক্ত সফটওয়্যারের বিতরন এবং রুপান্তর যেন কপিরাইটের হুমকির মুখে না পড়ে সেজন্য স্টলম্যান এক নতুন ধারনার জন্ম দেন যার নাম ‘কপিলেফট’। কপিলেফটের ফলে একটি সফটওয়্যার স্বাধীনভাবে ব্যবহার করা ছাড়াও ব্যবহারকারী এর পরিবর্তন করতে পারবেন, এমনকি এই সফটওয়্যারকে রূপান্তর করে একটি নতুন সফটওয়্যারও তৈরি করা যাবে। এজন্য কারো অনুমতি নিতে হবে না বা এর জন্য কোন প্রকার অর্থও প্রদান করতে হবে না। কপিরাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়, আর অন্যদিকে কপিলেফট ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা বজায় রাখতে সদা সচেষ্ট। তবে এর মূল উন্নয়নকারীর অবদান যেন ক্ষুন্ন না হয় সেজন্য কিছু শর্তও থাকে। উল্লেখ্য, কপিলেফটের ক্ষেত্রে এখন বেশ কিছু লাইসেন্স আছে-GPL, LGPL, FDL। স্টলম্যানের এসব নিত্যনতুন ধারনা অনেকেই আকৃষ্ট করে তুলে। ফলে এ প্রকল্পে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি এবং প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে।

নব্বই দশকের শুরু… গনুহ অপারেটিং সিস্টেম উন্মুক্ত হবার অপেক্ষায়। তবে এর একটি বড় অংশ তখনও বাকী, আর সেই অংশটি হলো অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। সেই কাজটিকে সহজ করে দেন ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিনাস টরভেল্ট। ইউনিক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম ‘মিনিক্স’ নিয়ে শখের বশে কাজ করতে করতে ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে লিনাস তৈরি করে ফেলেন একটি অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। ফলে গনুহ অপারেটিং সিস্টেমের কার্নেল হিসেবে একেই বেছে নেয়া হয়, জন্ম নেয় মুক্ত সফটওয়্যার যুদ্ধের সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র-‘লিনাক্স’! লিনাসের নামানুসারেই এর নামকরন করা হয়। ফলে অনেকেই ধারনা করে বসেন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের পুরোটাই বোধহয় লিনাসের তৈরি করা। আসলে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের বেশির ভাগ অংশ তৈরি না করেও লিনাক্সের সাথে সাথে লিনাক্সের জনক হিসেবে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন লিনাস টরভেল্ট। লিনাক্স আসার পরপরই মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পায়। উন্মুক্ত সোর্সকোড ভিত্তিক এই অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার ব্যবহারকারী এবং প্রোগ্রামারদের সামনে নতুন দ্বার উন্মোচন করে।

স্টলম্যান একজন সাধারন ছাত্রের মতো সস্তা জীবন-যাপনই বেশি পছন্দ করেন। মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা, অং সাং সুচি’র মতো মানুষেরাই তার জীবনে বেশি প্রভাব ফেলেছেন বলে মনে করেন তিনি। ব্যাক্তিগত জীবনে নাস্তিক; জন্মসূত্রে খ্রিষ্টান হলেও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা কখনও পালন করা হয় না। কাজ শেষে অফিসেই ঘুমিয়ে পড়েন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। তার ব্যাক্তিগত সম্পদ বলে তেমন কিছুই নেই। আসলে প্রায় গত তিন দশক ধরে তার ধ্যান-জ্ঞান একটাই, আর তা হলো মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তথ্যপ্রযুক্তির মতো বিশ্ব রাজনীতিকেও বানিজ্যের আওতামুক্ত করার পক্ষপাতী স্টলম্যান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা সর্বাগ্রে লোভী ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়াতেই গণতন্ত্রের মুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। তাই ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না হলে গনতন্ত্র তথা মানবতার মুক্তি সম্ভব নয়। এছাড়াও মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনের অগ্রদূত স্টলম্যান মনে করেন সফটওয়্যারের বানিজ্যিকরন পৃথিবীর প্রধান সমস্যা নয়। তাঁর মতে, বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর সমস্যা হলো পরিবেশ দূষন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming)।

মুক্ত সফটওয়্যার সম্পর্কে স্টলম্যান প্রচুর প্রবন্ধ লিখেছেন। তার সবেচেয়ে বিখ্যাত প্রবন্ধের নাম-কেন সফটওয়্যারের মালিক থাকা উচিত নয়? অনেকেই বলেন, মুক্ত সফটওয়্যার মানে হচ্ছে মেধার অপচয় বা মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি করে কোন লাভ নেই । তাদের এসব প্রশ্নের সব জবাব আছে এই প্রবন্ধে। এ পর্যন্ত অনেক ভাষায় এই প্রবন্ধটি অনুবাদ করা হয়েছে। সায়েন্স ফিকশনের ভক্ত স্টলম্যান দুটি সায়েন্স ফিকশনও লিখেছেন। সফটওয়্যার কপিরাইট এর প্যাটেন্টের বিরূদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ২০০৬ সালে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কেরলায় রাজ্য সরকারের স্টলম্যানের এক বৈঠকের পর সরকার এই রাজ্যের প্রায় সাড়ে বারো হাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম মাইক্রোসফট উইন্ডোজের বদলে উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার সিদ্ধান্ত নেয়।

সফটওয়্যার কপিরাইট আর প্যাটেন্টের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে তিনি প্রথম বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছিলেন মুক্ত সফটওয়্যারের স্বপ্ন। তার স্বপ্ন ছুঁয়ে গেছে সমস্ত বিশ্বকে। এর বড় উদাহরন সম্ভবত আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রযুক্তি বিমুখ একটি জাতি হিসেবে আমাদের দুর্নাম থাকলেও আমাদের তরুন সমাজ এখন স্টলম্যানের মন্ত্রে দীক্ষিত। আসলে যেকোন যুদ্ধে অনেকেই অংশগ্রহন করে, তবে সেই যুদ্ধ কাউকে না কাউকে শুরু করতে হয়। সেই শুরুটা তিনিই করেছেন। তাহলে এই সফটওয়্যার যুদ্ধের মহানায়ক তিনি ছাড়া আর কে হবেন?

[লেখাটি কিছুটা পরিবর্তিত রূপে বাংলা উইকিতে অন্তর্ভুক্ত। ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত]

সফটওয়্যারের স্বাধীনতা চাই...

পোস্টলিখেছেন বিপ্রতীপ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০০৮ ৮:৪০ অপরাহ্ন

কিছুদিন আগে টেকনোলজি টুডে-তে আমার লেখা ওপেন সোর্স বিষয়ক একটি প্রচ্ছদ রচনা ছাপা হয়েছিলো। এর চুম্বক অংশ আমাদের প্রযুক্তির পাঠকদের জন্য...

-------------------------------------------------------
স্বাধীনত সবাই চায়...সর্বক্ষেত্রে, এমনকি তথ্যপ্রযুক্তিতেও। তাই বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তিতেও সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘ওপেন সোর্স’। সারাবিশ্বে ওপেন সোর্স নিয়ে যে জাগরন সৃষ্টি হয়েছে, তার হাওয়া এসে আমাদের দেশেও লাগছে। বিশেষ করে আমাদের দেশের তরূন সমাজ এই স্বাধীন সফটওয়্যারের পক্ষে সোচ্চার। ওপেন সোর্সের মানে হলো কম্পিউটারের বিভিন্ন সফটওয়্যারের সোর্স কোড বা সাংকেতিক ভাষাকে যা বিনামূল্যে ভাবে বিতরণ করা। কেন আপনি ওপেন সোর্স ব্যবহার করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরটি কমবেশি সবার জানা। বানিজ্যিক সফটওয়্যার কিনতে হবে আপনাকে হাজার টাকায় কিন্তু ওপেন সফটওয়্যারের বেশির ভাগই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন একদম বিনামূল্যে। তাছাড়া সোর্স কোড উন্মুক্ত থাকায় আপনি সেসব সফটওয়্যারটিকে আপনার চাহিদা অনুযায়ী উন্নতি সাধন করতে পারবেন।
ছবি
ওপেন সোর্সের খুঁটিনাটি
অনেকেই ওপেন সোর্সের সাথে ফ্রি-ওয়্যার এবং ফ্রি-সফটওয়্যার এই দুটি বিষয়কে এক করে ফেলেন। এই তিনের মাঝে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে। এখন এই বিষয়গুলোর মাঝে মৌলিক পার্থক্য এবং ওপেন সোর্সের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
ওপেন সোর্সের প্রথম এবং প্রধান পরিচয়টি হলো এর সোর্স কোড সবার জন্য স্বাধীন থাকবে। এর সোর্স কোড যে কেউ ইচ্ছেমতোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন করতে পারবেন, এমনকি এই সোর্স কোড ব্যবহার করে একজন নতুন সফটওয়্যারও তৈরি করতে পারবেন। যেমনঃ জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার ফ্লক তৈরি করা হয়েছে উন্মুক্ত ওয়েব ব্রাউজার ফায়ারফক্স ইঞ্জিন ব্যবহার করে। তবে সব ওপেন সোর্স সফটওয়্যার বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। যেমনঃ মাইএসকিএল, অ্যাপাচি। ওয়েব নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের কাছে এই দুটি সফটওয়্যার খুবই পরিচিত।
ফ্রি সফটওয়্যারের প্রধান পরিচয় হলো ব্যবহারের স্বাধীনতা। এসব সফটওয়্যারে আপনি ইচ্ছেমতোন ব্যবহার, কপি, পরিবর্তন, বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে বিতরণ ইত্যাদি করার স্বাধীনতা পাবেন। সফটওয়্যারটির পরিবর্তন বা বিতরনের জন্য মূল নির্মাতাকে কোন অর্থ প্রদান করতে হবে না বা কোন ধরনের অনুমতি নেয়ারও প্রয়োজন হবে না। গনুহ (GNU) এর ভাষায় ফ্রি সফটওয়্যারের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য হলো চারটি-
• যেকোন উদ্দেশ্যে সফটওয়ারটি চালানোর স্বাধীনতা (প্রথম স্বাধীনতা)।
• সফটওয়ারটির কার্যপদ্ধতি জেনে নিজের প্রয়োজন মত তাকে পরিবর্তন করার স্বাধীনতা (দ্বিতীয় স্বাধীনতা)। এর একটি পূর্বশর্ত হল সফটওয়ারটির সোর্সকোড পড়তে পারা।
• সফটওয়ারটির কপি পুনঃবিতরণের স্বাধীনতা, যেন আপনি আপনার প্রতিবেশিকে সাহায্য করতে পারেন (তৃতীয় স্বাধীনতা)।
• সফটওয়ারটি উন্নত করা এবং সমাজের সুবিধার্থে উন্নত সংস্করণটি সকলের ব্যবহারের জন্য প্রকাশের স্বাধীনতা (চতুর্থ স্বাধীনতা)। সফটওয়ারের সোর্সকোড পড়তে পারা এটিরও একটি পূর্বশর্ত।
ফ্রি সফটওয়্যার সম্পর্কে আরোও বিস্তারিত জানতে চাইলে গুনহ –এর ওয়েব সাইট ঘুরে আসতে পারেন। এর ওয়েব ঠিকানা হচ্ছে- http://www.gnu.org/philosophy/free-sw.bn.html" target="_blank
এবার দেখে নেয়া যাক, ফ্রিওয়্যারের সাথে ফ্রি সফটওয়্যারের পার্থক্য কি। ফ্রি-ওয়্যার হলো এক ধরনের সফটওয়্যার যা বিনামূল্যে শুধুমাত্র ব্যবহার করা যায়। এর সোর্সকোড উন্মুক্ত থাকে না। এতে নির্মাতার কপিরাইট থাকায় তা যে কেউ বিতরন বা বিক্রি করতে পারবেন না। তবে এতে সফটওয়্যারের ডেমো ভার্সনের চেয়ে কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। আর তা হলো- নির্দিষ্ট সময় পর তা ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে না। ফ্রি সফটওয়্যারের একটি ভালো উদাহরন হচ্ছে জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার ওপেরা। এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা সম্ভব হলেও এর সোর্সকোড উন্মুক্ত নয়।
ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও আছে। বেশির ভাগ ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের প্রোগ্রামাররা নিজ়েদের পেশাগত কাজের ফাঁকে ফাঁকে ওপেন সোর্স নিয়ে কাজ করেন বলে ওপেন সোর্স সফটওয়্যাররের উন্নয়ন কিছুটা ধীর গতিতে হয়। এছাড়া ওপেন সোর্স ব্যবহারে কোন অসুবিধার সম্মুখীন হলে বানিজ্যিক সফটওয়্যারের মতো আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাহায্য পাবেন না। তবে বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, কোন ওপেন সোর্স জনপ্রিয় হলে একে ঘিরে অনলাইনে একটি গ্রুপ বা কমিউনিটি গড়ে উঠে। এ ধরনের কমিউনিটি বা ফোরামে একজন সদস্য অন্য সদস্যকে এ ব্যাপারে সাহায্য করে থাকেন।
ওপেন সোর্সের কি মেধার অপচয়?
ওপেন সোর্স কি শুধুই মেধার অপচয়? -এই প্রশ্নটি খুবই হাস্যকর। তবুও এ প্রশ্নটি উত্থাপনের কারন হলো, অনেক মুনাফাখোর সফটওয়্যার ব্যবসায়ী দাবি করেন, ওপেন সোর্স প্রজেক্টের সাথে কাজ করা মানে হলো শুধু মেধার অপচয় আর এর মাধ্যমে একজন সফটওয়্যার নির্মাতা নিঃস্ব হয়ে যেতে পারেন। সাম্প্রতিক কালে সারাবিশ্ব জুড়ে ওপেন সোর্স আন্দোলন জোরদার হবার পর তারা এই দাবিগুলো আরোও জোর গলায় করছেন যা সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ওপেন সোর্স সম্পর্কে ভুল ধারনা সৃষ্টি করছে। এমন কথা যারা বলেন তাদের ওপেন সোর্স নিয়ে খুব সম্ভবত ভালো ধারনা নেই। সবকিছু না জেনে শুনে শুধু নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই তারা এমন কথা বলে থাকেন। আসুন এবার দেখা যাক, এই হাস্যকর প্রশ্নের উত্তর কি হতে পারে। ধরুন, আপনি হয়তো একটি ওপেন সফটওয়্যার তৈরি করে বিনামূল্যে বিতরন করলেন। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আপনার এতে লাভ কি হচ্ছে। এক্ষেত্রে লাভের দিকটি আপনাকে একটু অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে। ওপেন সোর্স কাজ সাধারনত প্রোগ্রামাররা তাদের পেশাগত কাজের অবসরে করে থাকেন। এতে তাদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সুনাম বৃদ্ধি পায়। এই সুনাম তাকে অন্য কোন বড় কাজ পেতে সাহায্য করে। তাছাড়া অনেক বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই ওপেন সোর্স সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে জন্য আরোও কিছু বাড়তি সুবিধা পেতে চায়। সেক্ষেত্রে তারা সেই সফটওয়্যারটির নির্মাতার কাছ থেকে ইচ্ছেমতোন কাস্টোমাইজেশন করে নিতে পারে, যার মাধ্যমে নির্মাতা অর্থ উপার্জন করতে পারেন। সফটওয়্যারটি জনপ্রিয় হলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও ওপেন সোর্স নির্মাতা আয় করতে পারেন। এই সুযোগটি ছাড়াও সফটওয়্যারের প্রধান নির্মাতা হিসেবে কৃতিত্বটুকু তারই থাকবে। সেদিক থেকে বলা যায়, ওপেন সোর্স তৈরি করলে যে কেউ একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাবেন এমন ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। তাছাড়া সোর্স কোড উন্মুক্ত থাকায় যে কেউ সফটওয়্যারটির উন্নতি করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় ত্রুটি (বাগ) খুঁজে বের করতে পারবেন যা পরবর্তীতে সফটওয়্যারটির উন্নয়নে প্রোগ্রামারকে সহায়তা করবে। তাই একটা কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ওপেন সোর্সে ব্যবহারকারী এবং নির্মাতা উভয়েই লাভবান হবে।
সফটওয়্যার কপিরাইট বনাম ওপেন সোর্স
বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান আছে যারা পাইরেসির অজুহাত দিয়ে ওপেন সোর্সকে রুদ্ধ করে দিতে চান। বিশেষ কিছু ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা ওপেন সোর্সের অগ্রযাত্রায় নাখোশ। অনেকে একই সাথে একটি সফটওয়্যার অনেকে ব্যবহার করার বিষয়টিকেও আবার সফটওয়্যারে কপিরাইট ভঙ্গের বিষয়টিকে সম্পত্তি চুরির সাথে তুলনা করতে চান। অনেকে আবার এমন অভিযোগও করেন যে ওপেন সফটওয়্যাররের মাধ্যমে তাদের সফটওয়্যারের কপিরাইট ভঙ্গ করা হয়েছে বা এই ওপেন সফটওয়্যারটি তাদের সফটওয়্যারের সাথে হুবুহু মিল আছে! অর্থ্যাৎ উন্মুক্ত সফটওয়্যারভিত্তিক যেকোন কাজেই তারা নিজেদের কাজের মিল খুঁজে পান। অনেকে আবার একই সফটওয়্যার ক্রেতার বাইরে অন্য কেউ ব্যবহার করবেন তা ভালো চোখে দেখেন না। এ ব্যাপারে একটি উদাহরন দেয়া যেতে পারে। ধরুন, আমি একটি পন্য (মোবাইল কিংবা কম্পিউটার যাই বলুন) কিনলে আমি তা ইচ্ছেমতোন ব্যবহার করতে পারি। প্রয়োজনবোধে আমার আত্মীয় স্বজনরাও ব্যবহার করতে পারেন। কারন আমি সেই পন্যটি টাকা দিয়ে কিনেছি এবং সেই সূত্রে আমি সেটির মালিক। আমি ইচ্ছে হলে সেই পন্যটি বিক্রিও করে দেয়ার সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করি। সেক্ষেত্রে কপিরাইট ভঙ্গ হবার কোন কারন নেই। তাহলে সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে কেন সেটি কার্যকর হবে না। তাই একটি সফটওয়্যার কিনে অনেকে ব্যবহার করা কপিরাইটের লঙ্ঘন বা চুরি এমন দাবি কিছুটা হাস্যকর বৈকি! ব্যবহারের অধিকার বা কিভাবে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করবো সেই অধিকারটুকুও ক্রেতা হিসেবে আমার থাকা উচিত।
সফটওয়্যারের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করতে অনেক সফটওয়্যার নির্মাতাই এখন কপিরাইটের মধ্যেই সীমাবন্ধ থাকছেন না। সফটওয়্যারের মালিকানাকে আরোও শক্তিশালী করতে তারা প্যাটেন্টের আশ্রয় নিচ্ছেন। কথিত আছে, প্যাটেন্ট ধারনার উদ্ভব হয়েছে প্রাচীন গ্রীসে। এর শুরুটা ছিল বেশ হাস্যকর। তখনকার দিনে কেউ কোন মজাদার খাবার রান্না করলে সেই রান্নার রেসিপিটি তার আবিষ্কার (!) হিসেবে গন্য করা হতো। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই খাবারটি অন্য কেউ রান্না করতে পারতেন না। এমন একটি হাস্যকর ধারনারই আধুনিক রূপ প্যাটেন্ট। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার প্যাটেন্টের আওতায় আনার কথা থাকলেও একসময় সফটওয়্যারকেও প্যাটেন্টের আওতায় আনা হয়। তবে সফটওয়্যার প্যাটেন্টের অপব্যবহারও কম নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা সফটওয়্যার না বানিয়ে সফটওয়্যারের ধারনাকে প্যাটেন্ট করে ফেলেন। পরে প্রায় একই ধরনের সফটওয়্যার কেউ তৈরি করলে তার বিরূদ্ধে বিভিন্ন মামলা সহ বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়রানির চেষ্টা করেন। উদ্দেশ্য বড় অংকের ক্ষতিপূরন আদায়। সফটওয়্যার প্যাটেন্টের এই অপব্যবহারের ফলে বিভিন্ন দেশের মানুষ সফটওয়্যার প্যাটেন্টের বিরূদ্ধে সোচ্চার। বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেই সফটওয়্যার প্যাটেন্টকে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্যাটেন্ট কিংবা কপিরাইট যাই বলুন এ ধরনের উদ্যোগে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের মানুষের কাছে থেকে সফটওয়্যারকে আরোও হাতের নাগালের বাইরে নিয়ে যাবে। এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে পৃথিবীর দরিদ্র জনগোষ্ঠী। তাই প্যাটেন্টের মাধ্যমে ওপেন সোর্সের জয়যাত্রা যেন কোনভাবে রুদ্ধ না হয় সেদিকে আমাদের সদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
ওপেন সোর্সঃ প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ
আমাদের দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিশাল অংকের টাকা খরচ করে সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষমতা নেই। তাই অনেক দিন ধরেই আমরা অবৈধভাবে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে আসছি। এ চর্চাটি মোটেও সঠিক নয়। গত কিছুদিন আগে এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বাংলাদেশ পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। আমাদের দেশে এসব ব্যাপারে আইনের কোন প্রয়োগ নেই। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আইনের প্রয়োগ হলে আমরা কিভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করবো?
এই একুশ শতকে একটি কম্পিউটার ছাড়া একজন আধুনিক মানুষের জীবন-যাপন চিন্তাই করা যায় না। আর দাম হাতের নাগালে থাকায় এখন ঘরে ঘরে কম্পিউটার থাকাটা খুবই সাধারন ব্যাপার। তবে শুধু কম্পিউটার থাকলেই তো আর চলবে না, কম্পিউটারে কাজকর্ম করতে হলে চাই সফটওয়্যার। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি। সাধারনত ২০/২৫ হাজার টাকা দিয়ে একজন ব্যক্তি কম্পিউটার কিনে ফেলেন। কিন্তু সফটওয়্যারের দাম একেবারেই হাতের নাগালে হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারী পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। দেখা যায় সাধারন অপারেটিং সিস্টেম আর কম্পিউটারে টাইপ করার কিছু সফটওয়্যার কিনতেই একজন ব্যক্তিকে কম্পিউটারের দামের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হবে। এ যেন, কাপের চেয়ে প্লেট গরম হবার মতো অবস্থা! তাহলে কি আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রযুক্তির সুবিধা বঞ্চিত থাকবেন। এর উত্তর হবে অবশ্যই ‘না’। কারন, বানিজ্যিক সফটওয়্যারের বিকল্প হিসেবে আছে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার। আর চোরাই সফটওয়্যার ব্যবহারের অপবাদ থেকে মুক্তি পেতে হলেও আছে একটাই সমাধান - ওপেন সোর্সের চর্চা বাড়ানো। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা। আর আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বা পড়ছেন । কৃষকের ঘামে ভেজা টাকায় যারা একজন প্রযুক্তিবিদ হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের অবশ্যই দেশ ও দশের প্রতি একটি দায়বদ্ধতা আছে। তাই তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাজার টাকার সফটওয়্যারের বিপরীতে একটি ব্যবহার বান্ধব ওপেন সফটওয়্যার তুলে দিতে পারেন মানুষের হাতে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণের পাশাপাশি বাড়াতে পারেন নিজের দক্ষতা।

আমাদের ওপেন সোর্স

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশেও তথ্যপ্রযুক্তি মনষ্ক তরুন সমাজের মাঝে ওপেন সোর্সের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আসুন এবার এক নজরে জেনে নেয়া যাক আমাদের দেশের বিভিন্ন ওপেন সোর্স প্রতিষ্ঠান এবং তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কেঃ
অঙ্কুর-ওপেন সোর্স ও বাংলা কম্পিউটিংয়ে উল্লেখযোগ্য একটি সংগঠনের নাম ‘অঙ্কুর’। এই সংগঠনটি মূলত বাংলা ভাষাকেন্দ্রিক সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন প্রয়োজ়নীয় উন্মুক্ত সফটওয়্যারের বাংলা ইন্টারফেস তৈরির সাথে জড়িত। অন্যন্য ওপেন সোর্স প্রতিষ্ঠানের মতো অঙ্কুর-এর মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে এর স্বেচ্ছাসেবীরা। অঙ্কুর-এর স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মানুষ। এছাড়াও রয়েছেন প্রবাসে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এসব স্বেচ্ছাসেবীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। এখন পর্যন্ত অঙ্কুরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে বাঙ্গালীদের কাছে উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স ব্যবহারকে জনপ্রিয় করে তোলা। এছাড়া অঙ্কুরের স্বেচ্ছাসেবীরা ওপেন অফিস সহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় উন্মুক্ত সফটওয়্যারের বাংলা অনুবাদ করেছেন। অঙ্কুরের সাথে কাজ করতে হলে প্রোগ্রামিং জানতেই হবে এমন কোন কথা নেই। আকাঁআকিঁর অভ্যাস থাকলে যে কেউ অঙ্কুরের ‘মুক্ত বাংলা ফন্ট’ প্রজেক্টে যোগ দিতে পারেন। এছাড়া সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য ‘বাংলা আর্কাইভ’ নামে অঙ্কুরের আরেকটি প্রজেক্ট রয়েছে। অঙ্কুর বিভিন্ন সময় ওপেন সোর্স সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করার পাশপাশি ওপেন সোর্স বিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা পরিচালনা করে থাকে।
ওয়েব সাইটঃ http://www.ankurbangla.org" target="_blank
বিডিওএসএন (BDOSN)-বাংলাদেশে ওপেন সোর্স ভিত্তিক সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (সংক্ষেপে বিডিওএসএন) । ওপেন সোর্স ভিত্তিক এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে ২০০৫ সালের ২৪ অক্টোবর। বাংলাদেশে উন্মুক্ত সফটওয়্যার জনপ্রিয় করার পেছনে এই প্রতিষ্ঠানটির অবদান অনস্বীকার্য। উন্মুক্ত সোর্স বিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময় উন্মুক্ত সফটওয়্যার সম্বলিত ওপেন সিডি প্রকাশ করে থাকে যা স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়। এছাড়াও কেউ আগ্রহী হলে বিডিওএসএনের অফিস থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টুর বাংলা সংষ্করণ ‘হৈমন্তি’-এর সিডিও সংগ্রহ করতে পারেন। ওপেন সোর্সের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটি জনমানুষের বিশ্বকোষ হিসেবে খ্যাত উইকিপিডিয়া বাংলাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
ওয়েব সাইটঃ http://www.bdosn.org" target="_blank
যোগাযোগঃ বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক
২৯১ সোনারগাঁও রোড, চতুর্থ তলা, ঢাকা।
একুশেঃ স্বাধীন বাংলা কম্পিউটিংয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করা ওপেন সোর্স প্রতিষ্ঠান একুশে- কাজ করছে মূলত বাংলা ভাষাভিত্তিক সফটওয়্যার নিয়ে। বিভিন্ন ধরনের উন্মুক্ত বাংলা সফটওয়্যার ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন বাংলা কি-বোর্ডের ওয়েব ভিত্তিক সংষ্করণ বিতরন করছে। এসব ওয়েব ভিত্তিক কি-বোর্ডের মাধ্যমে কোন ধরনের বাংলা সফটওয়্যার ইনস্টল না করা থাকলেও অনলাইনে বাংলা লেখা যায়, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলা কি-বোর্ডের পাশপাশি একুশে-এর উল্লেখযোগ্য ওপেন সোর্স প্রজেক্টগুলো হলো- জনপ্রিয় উন্মুক্ত ওয়েব ব্রাউজার মোজিলা ফায়ারফক্সের বাংলা সংষ্করণ, একুশে অভিধান, ওয়ার্ডপ্রেসের বাংলা তারিখের প্লাগইন ইত্যাদি।
ওয়েব সাইটঃ http://www.ekushey.org" target="_blank

আগেই বলেছি, বাংলাদেশের ওপেনসোর্স প্রজেক্টের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে বাংলা কম্পিউটিং। ইউনিকোড প্রযুক্তি আসায় এসব প্রজেক্টের সফল বাস্তবায়ন অনেকটাই সহজতর হয়েছে। বেশির ভাগ দেশেই কম্পিউটার ব্যবহারী চান নিজের মাতৃভাষায় একটি অপারেটিং সিস্টেম। আমাদের বাংলা ভাষাতেও এখন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যায়, আর তা সম্ভব হয়েছে ওপেন সোর্সের মাধ্যমেই। উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টুর বাংলা লোকালাইজেশনের মাধ্যমে ২০০৭ সালের একুশে বইমেলায় বাংলাদেশের ওপেন সোর্স প্রতিষ্ঠান অঙ্কুর এবং সিসটেকের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হয় বাংলা অপারেটিং সিস্টেম ‘শ্রাবণী’। সম্প্রতি উবুন্টু লিনাক্সের ৭.১০ সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে বাংলা অপারেটিং সিস্টেম ‘হৈমন্তি’। । এছাড়াও ওপেন সোর্স ভিত্তিক বাংলা কম্পিউটিং-এ যেসব উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে তার মাঝে রয়েছে বিভিন্ন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং বুলেটিন বোর্ডের বাংলা সংষ্করণ তৈরি। বিভিন্ন ওপেন সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সি এম এস(CMS) -এর বাংলা সংষ্করণ তৈরি করায় খুব সহজেই যে কেউ এসব সি এম এস ব্যবহার করে বাংলায় ওয়েব সাইট তৈরি করতে পারেন। ইদানিংকালে এ ধরনের উন্মুক্ত সি এম এস ব্যবহার করে বাংলায় ব্লগ সাইট তৈরি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সময়ের জনপ্রিয় সি এম এস ইঞ্জিনগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে-জুমলা, দ্রুপাল, ওয়ার্ডপ্রেস। এছাড়া অনলাইনে বাংলা ফোরাম ধারনাটিও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে ওপেন সোর্স ফোরাম ইঞ্জিন বা বুলেটিন বোর্ড থাকার ফলেই। ইতোমধ্যে জনপ্রিয় দুটি বুলেটিন বোর্ড- পিএইচপিবিবি এবং পানবিবি’র বাংলা সংষ্করণ তৈরি করা হয়েছে।

মুক্ত -ওপেন সোর্স বিষয়ক ই-পত্রিকা
মুক্ত ওপেন সোর্স জগতের খবরাখবর নিয়ে প্রকাশিত বাংলা অনলাইন পত্রিকা। এতে রয়েছে লিনাক্স ও ওপেনসোর্স সম্পর্কিত সাম্প্রতিক খবরাখবর, প্রতিবেদন, সফটওয়্যার রিভিউ, টিউটোরিয়াল ইত্যাদি বিভাগ। ইন্টারনেটে ওপেন সোর্স নিয়ে বিভিন্ন ভাষায় অনলাইন পত্রিকা থাকলেও বাংলা ভাষায় এমন কোন অনলাইন পত্রিকা ছিল না। সেই অভাব পূরণের স্বপ্ন নিয়েই মুক্ত-এর যাত্রা শুরু।
আমাদের দেশে ওপেনসোর্সের জনপ্রিয়তা ক্রমশই বাড়ছে। তাই আশা করা যায় ওপেন সোর্স বিষয়ক অনলাইন পত্রিকা ‘মুক্ত’ ওপেন সোর্স সম্পর্কে আগ্রহী বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের বেশ কাজে লাগবে।
মুক্ত ম্যাগাজিনটি ওপেন সোর্সের মতোই সবার জন্য উন্মুক্ত। ওপেন সোর্সকে যেভাবে যে কেউ সমৃদ্ধ করতে পারেন তেমনি মুক্ত-তেও যে কেউ ওপেন সোর্স ও লিনাক্স সম্পর্কিত যেকোন ধরনের লেখা প্রকাশের মাধ্যমে পত্রিকাটিকে সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এছাড়া যে কেউ ওয়েব ঠিকানা এবং লেখকের নাম উল্লেখ করে এই সাইটের যেকোন লেখা ওয়েব কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ করতে পারবেন।
মুক্ত সাইটের অফিসিয়াল ব্লগ থেকে জানা গেলো, এই সাইটির কাজ শুরু হয় ২০০৬ সালের দিকে। প্রথমদিকে পিডিএফ ফরম্যাটে ম্যাগাজিন বের করার চিন্তাভাবনা করলেও পরবর্তীতে পাঠক এবং লেখক উভয়ের সুবিধার কথা বিবেচনা করে অনলাইন পত্রিকার বের করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে পত্রিকাটির নাম রাখা হয় ‘মুক্ত’।
এই সাইটটির পেছনে যারা কাজ করছেন তারা হলেন- ইমরান হোসেন, এস.এম. ইব্রাহিম (লাভলু), অমি আজাদ, সুমিত রঞ্জন দাস এবং ইশতিয়াক আহমেদ (ফয়সাল)। এদের সবাই বিভিন্ন উন্মুক্ত সোর্স প্রজেক্টে কাজ করেছেন।
মুক্ত সাইটটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে এ সময়ের জনপ্রিয় এবং উন্মুক্ত কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম জুমলা। এবং এর বাংলা ইন্টারফেজ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলা জুমলা-র অফিসিয়াল বাংলা ল্যাংগুয়েজ প্যাক। সাইটের থিম, ব্যানার সহ যাবতীয় ডিজাইন করেছেন ইমরান হোসেন। মূলত তার প্রচেষ্টাতেই সাইটটি খুব দ্রুত আলোর মুখ দেখেছে। মুক্ত সাইটটির হোস্টিং সহায়তা দিয়েছিলেন সুমিত রঞ্জন দাস। বর্তমানে সাইটটির জন্য হোস্টিং সহায়তা দিচ্ছেন phpxperts.net এবং পিএইচপি প্রোগ্রামার হাসিন হায়দার। সাইটটির যাবতীয় কারিগরী বিষয় এবং সমস্যা দেখাশোনা করছেন ইমরান হোসেন, এস.এম ইব্রাহিম (লাভলু) ।
ওপেন সোর্স নিয়ে বাংলা ভাষায় এ ধরনের অনলাইন পত্রিকা সত্যিকার অর্থেই একটি অসাধারন উদ্যোগ।সাইটটির যাবতীয় ডিজাইনও বেশ চমৎকার। কোন লেখা ভালো লাগলে আপনি পছন্দের মানদন্ড অনুযায়ী লেখাটিতে রেটিং করতে পারবেন।এছাড়াও লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করার সুযোগ তো রয়েছেই। তবে সাইটটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তাই লেখার পরিমানও খুব কম। তবে আশা করা যায় খুব শীঘ্রই পূর্নাঙ্গভাবে পাঠকের কাছে মুক্ত পৃথিবীর সব খবর নিয়ে হাজির হবে ‘মুক্ত’।
ওয়েব সাইটঃ http://mukto.org" target="_blank
শেষের কথা
প্রযুক্তির বিশ্বে ওপেন সোর্স শব্দটি বেশ পুরাতন। খুব বেশিদিন না হলেও আমাদের দেশে ওপেন সোর্স নিয়ে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝে ব্যপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমাদের দেশের ওপেন সোর্স প্রজেক্টের বেশির ভাগই এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বাংলা সফটওয়্যার বা সফটওয়্যারের বাংলা অনুবাদের সাথে জড়িত। ওপেন সোর্স ব্যবহার এবং বাংলা অনুবাদের পাশাপাশি আমাদের ওপেন সোর্স ভান্ডারকে সমৃদ্ধশালী করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে হলে ব্যবহার করা যায় এমন উন্মুক্ত সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের নাম পৌছে দিতে হবে। আশার কথা হলো, আমাদের দেশের প্রযুক্তি মনষ্ক তরুন সমাজের একটি বড় অংশ এই ওপেন সোর্স আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছেন। এ বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে বেশ বড়সর পরিবর্তন আসবে। আসলে আমাদের মতো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে হাজার হাজার টাকা খরচ করে বানিজ্যিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই বানিজ্যিক সফটওয়্যারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যেভাবে সারাবিশ্ব ফ্রি ও ওপেন সোর্সের পথে এগিয়ে চলেছে তেমনি আমাদেরও সে পথেই এগিয়ে যেতে হবে। ওপেন সোর্সের এখনো বেশ কিছু সমস্যা আছে একথা ঠিক। তবে চোরাই সফটওয়্যার ব্যবহারের অপবাদ ঘুচাতে হলে এখন ওপেন সোর্স ভিন্ন অন্য কোন পথ আমাদের সামনে খোলা নেই। তাই আসুন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে উন্মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করি আর এক সাথে কন্ঠ মিলিয়ে উচ্চারণ করি তথ্যপ্রযুক্তির নতুন শ্লোগান, ‘সফটওয়্যারের স্বাধীনতা চাই !’

তথ্যসূত্রঃ
http://www.gnu.org" target="_blank
http://www.wikipedia.org" target="_blank
http://www.ankurbangla.org" target="_blank
http://www.mukto.org" target="_blank
http://www.bdosn.org" target="_blank
http://www.ankurbangla.org" target="_blank
http://www.opensource.org" target="_blank

[এছাড়াও ইন্টারনেটের বিভিন্ন ব্লগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে]






---------------------------------------------------------
ওপেন সোর্সের জনক রিচার্ড স্টলম্যান
ওপেন সোর্স এবং ফ্রি সফটওয়্যার আন্দোলনের প্রবক্তা হলেন রিচার্ড স্টলম্যান।
১৯৫৩ সালের ১৬ মার্চ নিউ ইয়র্কে জন্ম নেয়া এই বিখ্যাত মার্কিন প্রোগ্রামার আজ থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ওপেন সোর্স আন্দোলনের সূচনা করেন। উন্মুক্ত সফটওয়্যারের পক্ষে এ যাবতকালের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রবন্ধের নাম- ‘কেন সফটওয়্যারের মালিক থাকা উচিত নয়’। এ প্রবন্ধে স্টিলম্যান বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরার মাধ্যমে সফটওয়্যার কপিরাইটের পক্ষে অবস্থান গ্রহন করেছেন। লেখাটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। উন্মুক্ত সোর্স নিয়ে আগ্রহীরা এই লেখাটির বাংলা সংষ্করণ http://gnu.univ-" target="_blank paris.com/philosophy/why-free.bn.html ওয়েব সাইট থেকে পড়ে নিতে পারেন। ১৯৮৩ সালে স্টলম্যান গনু (GNU) প্রকল্প শুরু করেন। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিনমূল্যের সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটি পূর্নাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম প্রণয়ন করা।
ছবি
এছাড়াও স্টলম্যান সম্পর্কে আরোও জানতে তাঁর ব্যাক্তিগত ওয়েব সাইটটিও ঘুরে আসতে পারেন- http://www.stallman.org" target="_blank

লিনাক্স
লিনাক্স হলো অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। ওপেন সোর্স ও বিনামূল্য সফটওয়্যারের ধারায় একটি উৎকৃষ্ট উদাহরন হলো লিনাক্স। ১৯৯১ সালে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিনাস টরভেল্ট অনেকটা শখের বশেই কাজ করতে করতেই তৈরি করেন অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্সের আদি ভার্সন ‘মিনিক্স’। ঠিক একই সময়ে রিচার্ড স্টলম্যানের গনু প্রকল্পের মাধ্যমে একটি পূর্নাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম ‘গনু হার্ড’ উন্মুক্ত হবার অপেক্ষায়। তবে সে কাজের একটি বড় অংশ তখনও বাকী আর সেটা হলো অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। আর সেই কঠিন কাজটিই সহজ করে দেয় লিনাস টরভেল্টের ‘মিনিক্স’। আর এভাবেই বিশ্ববাসীর কাছে উন্মুক্ত হয় এক নতুন দুয়ার-‘লিনাক্স’। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের বেশির ভাগ অংশ তৈরি না করেও লিনাক্সের সাথে সাথে লিনাক্সের জনক হিসেবে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন লিনাস টরভেল্ট। শুধু তাই নয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননার পাশাপাশি টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে গত শতাব্দীর সেরা একশ ব্যাক্তির মধ্যে ষোলতম স্থানটিও দখল করে নেন লিনাস।
ছবি
আজ থেকে মাত্র কিছুদিন আগেও অনেকেই মনে করতেন লিনাক্স শুধুমাত্র কম্পিউটার এক্সপার্টদের জন্য। কিন্তু বর্তমান সময়ে ব্যবহার বান্ধব বিভিন্ন চেহারার লিনাক্স এ ধারনা পালটে দিয়েছে অনেকখানি। লিনাক্স ব্যবহারকারীদের সংখ্যা তাই দিন দিন বেড়েই চলছে। এছাড়া অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীই নিজের অপারেটিং সিস্টেমকে মাতৃভাষায় দেখতে চান। সেই স্বপ্নটিও পূরণ হয়েছে লিনাক্স থাকার ফলে। এছাড়া বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় বড় কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় লিনাক্স ইনস্টল করা কম্পিউটার বাজারে ছাড়ার কথা জানিয়েছে যা খুবই ইতিবাচক। সব মিলিয়ে বলা যায়, ওপেন সোর্সের পতাকাবাহী লিনাক্স বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছে।
সদস্যের ছবি
বিপ্রতীপ
প্রশাসক

উপস্থিতিঃ অফলাইন
পোস্টঃ ১১৩০ [ দেখুন ]
নিবন্ধিত হয়েছেনঃ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০০৭ ৪:৩১ পূর্বাহ্ন
অবস্থানঃ গণকযন্ত্রের সামনে...
রক্তের গ্রুপঃ B+